প্রায় ২০ বছর পর সোমালিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করল উগান্ডা, দায়িত্ব যাচ্ছে সোমালি বাহিনীর হাতে

প্রায় দুই দশক ধরে সোমালিয়ায় থাকার পর নিজের সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে উগান্ডা। দেশটির ভারপ্রাপ্ত সেনা মুখপাত্র ক্রিস মাগেজি সোমবার জানান, দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার আওতায় সোমালিয়ায় মোতায়েন প্রথম দলের সেনারা এরই মধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন এবং আরও সেনা কয়েক দিনের মধ্যে ফিরবেন।
মাগেজি বলেন, আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ) মিশনের অধীনে থাকা সেনাসহ উগান্ডার সব বাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এই প্রক্রিয়া শেষ হবে। তাঁর ভাষায়, এর মধ্য দিয়ে হর্ন অব আফ্রিকার এই দেশে উগান্ডার অভিযানের সমাপ্তি ঘটবে এবং সোমালিয়া নিজের নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উগান্ডাই প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ২০০৭ সালে সোমালিয়ায় সেনা পাঠিয়েছিল। তখন সোমালিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারকে ইসলামপন্থি জঙ্গিদের হামলা থেকে রক্ষা করতে আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশন ইন সোমালিয়া (আমিসম) গঠিত হয়।
সংবাদ অনুযায়ী, উগান্ডা পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেসের (ইউপিডিএফ) ১০৯ সদস্যের প্রথম একটি দল শুক্রবার রাজধানী মোগাদিশু ছেড়েছে। এর আগে উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা প্রত্যাহার শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন।
জেনারেল মুহুজি এক্সে লিখেছিলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইউপিডিএফ সোমালিয়া থেকে সরে আসা শুরু করেছে এবং ২০ বছরের রক্ত ও ত্যাগের পর নিরাপত্তার দায়িত্ব সোমালি ভাইদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রত্যাহারের আগে গত সপ্তাহে কাম্পালায় উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট শেখ মহামুদ। বৈঠকে সোমালিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমালি প্রেসিডেন্ট উগান্ডাকে সোমালিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেছিলেন, তবে সেই আলোচনার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। সফরে মুসেভেনি সোমালি নেতা ও নাগরিকদের আল-শাবাব জঙ্গি বিদ্রোহের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বর্তমানে আফ্রিকান ইউনিয়ন মিশনের আওতায় সোমালিয়ায় আনুমানিক ৪ হাজার ৫০০ উগান্ডীয় সেনা রয়েছেন এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থায় আরও প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন আছেন।
সোমালিয়া দুই দশকের বেশি সময় ধরে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী আল-শাবাবের নেতৃত্বে দীর্ঘ ও প্রাণঘাতী বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়ছে। ২০০৭ সালে আসার পর উগান্ডার বাহিনী আল-শাবাবকে মোগাদিশু ও অন্যান্য বড় শহর থেকে হটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং সোমালি জাতীয় সেনাবাহিনীর পাশে থেকে কৌশলগত এলাকা পুনর্দখল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা সুরক্ষায় কাজ করে।
পরে উগান্ডার সেনারা আফ্রিকান ইউনিয়ন ট্রানজিশন মিশন ইন সোমালিয়া (আতমিস)-সহ পরবর্তী এইউ মিশনগুলোতেও ছিলেন; আতমিসের লক্ষ্য ছিল ধাপে ধাপে নিরাপত্তার দায়িত্ব সোমালিয়ার হাতে তুলে দেওয়া। ২০২৫ সালে এর জায়গায় আসে আফ্রিকান ইউনিয়ন সাপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশন ইন সোমালিয়া (অসাম), যার লক্ষ্য সোমালিয়ার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা।
অসামের ভবিষ্যৎ তহবিল নিয়ে এখন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘের সহায়তা ধাপে ধাপে কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জানুয়ারিতে ১২ মাসের একটি উত্তরণ পরিকল্পনা শুরু হওয়ার কথা, যাতে সোমালিয়া ও আফ্রিকান ইউনিয়ন বিকল্প তহবিলের উৎস খোঁজার সময় পায়।



