পাকিস্তান হয়ে আফগানদের ফেরত পাঠানোর মার্কিন পরিকল্পনায় তালেবানের ‘গুরুতর উদ্বেগ’

আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক স্কোর আফগান অভিবাসীকে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর প্রতিবেদিত পরিকল্পনা নিয়ে সোমবার গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও একটি সহায়তা সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ১৫০ জনের বেশি আফগান নাগরিককে পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পাঠানো হতে পারে। তাদের মধ্যে ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার আগে মার্কিন বাহিনীকে সহায়তা করা আফগানদের স্বজনরাও রয়েছেন।
তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বালখি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান এ খবরে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করছে যে যুক্তরাষ্ট্র কিছু আফগান শরণার্থীকে পাকিস্তানে পাঠানোর ইচ্ছা করেছে, যারা এখনো সে দেশে আইনি বসবাসের নথি পেতে পারেনি।’
সহায়তা সংগঠনগুলো সতর্ক করেছে, সাবেক মিত্র ও তাদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হলে তাদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
ক্ষমতায় ফেরার পর তালেবান কর্তৃপক্ষ পশ্চিমা-সমর্থিত বাহিনী ও সরকারের সঙ্গে কাজ করা আফগানদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এ বছরও তারা বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সাবেক প্রতিপক্ষরা নিরাপদে দেশে ফিরতে পারবে।
তবে জাতিসংঘ বিচারবহির্ভূত হত্যা, আটক ও নির্যাতনের প্রতিবেদন নথিভুক্ত করেছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন গত বছর ব্যাপক অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ হিসেবে আফগানিস্তানসহ কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তার প্রশাসন আফগানদের বিতাড়ন-সুরক্ষা শেষ করারও চেষ্টা করেছে; ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর কেউ কেউ বিশেষ অভিবাসী ভিসা পেয়েছিলেন।
ফেরত পাঠানোর তালিকায় কাবুল পতনের আগে মার্কিন সেনাবাহিনীকে সহায়তা করা আফগানদের স্বজনরাও থাকতে পারেন বলে সাবেক মিত্রদের সহায়তাকারী সংগঠন আফগানইভ্যাক জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আফগানিস্তানে বিতাড়নের ব্যবস্থা করতে পারে না। নাম প্রকাশ না করা মার্কিন কর্মকর্তারা নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, পাকিস্তান তাদের আফগানিস্তানে বহিষ্কারের তদারকি করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জার্মানি ও তুরস্ক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও আফগান নাগরিকদের সরাসরি আফগানিস্তানে ফেরত পাঠিয়েছে।
বালখি বলেন, তালেবান কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রকে ‘দায়িত্বশীল ও পরিমিত পদ্ধতি’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং আফগান নাগরিকদের ভাগ্য নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত স্পষ্ট পারস্পরিক বোঝাপড়া, প্রয়োজনীয় সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকার ও বৈধ দাবি বিবেচনায় নিয়ে নিতে বলেছে। তিনি বলেন, ‘আফগান পক্ষ এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে যোগাযোগ করতে প্রস্তুত।’
পাকিস্তান সরকার এ বছরের শুরুতে সারা দেশে ভিসাহীন আফগান নাগরিকদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। এটি কয়েক বছর ধরে চলা প্রত্যাবাসন নীতির অংশ, যার মাধ্যমে কয়েক দশকের যুদ্ধে পালিয়ে আসা লাখ লাখ আফগানকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক টানাপোড়েনে রয়েছে। গত অক্টোবরে সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর তা আরও খারাপ হয় এবং সীমান্ত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।



