পঞ্চগড়ে ট্রেনে পরিচয়ের পর নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা: রিফাত বিন সাজ্জাদের মৃত্যুদণ্ড

ট্রেনে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার পর মরদেহ রেললাইনে ফেলে রাখার মামলায় মো. রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৩) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২ নভেম্বর) পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর খলিলুর রহমান রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মো. আক্তার হোসেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, চোরাই অটোরিকশাসহ আটকের পর রিফাতের মোবাইল ফোনে পাওয়া ছবি-ভিডিও এবং জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য থেকে প্রায় দুই মাস আগের একটি হত্যাকাণ্ডের সূত্র পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ৮ মার্চ আটোয়ারী উপজেলার হাজী শাহার আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় লোকজন চোরাই অটোরিকশাসহ রিফাতকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে মোবাইল ফোনটি জব্দ করে।
তদন্তে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একতা আন্তঃনগর ট্রেনে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ওঠেন রিফাত। পথে ওই নারীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে কিসমত রেলওয়ে স্টেশনে নামিয়ে নিয়ে যান রিফাত।
সেদিন রাত ৯টার দিকে তাঁরা আটোয়ারী উপজেলার কিসমত রেলগেট এলাকায় পৌঁছান। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে শাপলা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের একটি কক্ষ ও পাশের বাগানে ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন রিফাত।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, পরে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে ওড়না দিয়ে নারীর দুই হাত পেছনে বেঁধে একটি সুপারি গাছের সঙ্গে আটকে রাখেন তিনি। এরপর ইট দিয়ে মাথায় একের পর এক আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে নারীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন রিফাত।
পরদিন ১৪ জানুয়ারি ভোরে মরদেহটি টেনে কিসমত রেলগেটের উত্তর দিকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গজ দূরে রেললাইনের ওপর রেখে যান তিনি। পরে একটি ট্রেনের নিচে পড়ে মরদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
এ ঘটনায় প্রথমে দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হলেও পরবর্তী তদন্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বেরিয়ে আসে।
ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর খলিলুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন করেছে। সেসব পর্যালোচনা করে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।




