ইউক্রেনে ত্রাণকেন্দ্রে রুশ বোমা হামলায় নিহত ১৮, নিখোঁজ আরও ২৭ জন

ইউক্রেনের একটি গ্রামে মানবিক ত্রাণ নিতে আসা অন্তত ১৮ জন রুশ হামলায় নিহত হয়েছেন। দেশটির নেতা এ হামলাকে ‘সম্পূর্ণ ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
হামলাটি চালানো হয় দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে। আঞ্চলিক প্রধান মিখাইলো সেমিকিন বলেছেন, অন্তত নয়টি ৩ হাজার কেজি ওজনের আকাশবোমা গ্রামটিতে আঘাত হানে; এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং আরও ২৭ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেমিকিন বলেছেন, উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ রয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘মানবিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত’ স্থানীয় স্কুলে প্রথম হামলার পর মানুষ যেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়।
জেলেনস্কি সোমবারের হামলার পর তৈরি হওয়া বিশাল গর্ত এবং ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধানরত উদ্ধার দলের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, কোমিশুভাখায় যেসব স্থানীয় বাসিন্দা রয়ে গেছেন, তাঁরা সেখানে প্রতি সপ্তাহে মানবিক ত্রাণ পেতেন—রুশরা এ বিষয়ে অজ্ঞ থাকতে পারে না।
তিনি বলেছেন, ‘এটি আরও একটি প্রমাণ যে রাশিয়া কোনো ধরনের উত্তেজনা প্রশমন চায় না।’ জেলেনস্কির ভাষ্যে, রুশ-অধিকৃত দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকি থেকে বেসামরিকদের সরিয়ে নিতে সম্প্রতি একটি সফল যৌথ রুশ-ইউক্রেনীয় অভিযানের পর ‘একটি মুহূর্ত এসেছিল, যখন পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দেখাতে পারত যে শান্তি সম্ভব’।
জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাশিয়া ঠিক বিপরীত সংকেত পাঠাচ্ছে—রাশিয়া আরও হত্যাকাণ্ডের ওপর ভরসা করছে।’
রুশ সামরিক বাহিনী এ হামলা নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করেন।




