ফ্রান্সে আবার স্কুল অবরোধ শিক্ষার্থীদের, পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষামন্ত্রীর

ফ্রান্সে সোমবার আবার কয়েক ডজন মাধ্যমিক স্কুল (লিসে) অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলের পরিবেশ ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ নিয়ে প্রতিবাদে সরকার আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ সপ্তাহের মুখোমুখি হয়েছে।
দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে শিশুরা স্কুলে ফেরার দিনেই এই অবরোধ হয়। লিসে অবরোধ সেপ্টেম্বর থেকে চলছে এবং প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর আহ্বান উপেক্ষা করেই শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলো কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলনকে তার প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ আন্দোলন ও সামাজিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।
সোমবার ভোর থেকে প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকার পাশাপাশি লিল, তুলুজ ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রবেশপথে ময়লার বড় পাত্র (হুইলি বিন) দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে আরও বিকল্প শিক্ষক নিয়োগ এবং ভবন মেরামত। কোনো কোনো স্কুলের বাইরে পুলিশ সদস্যরা পাত্রগুলো টেনে সরানোর চেষ্টা করেন এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ইউনিয়নগুলো মঙ্গলবার অনুষদগুলোতে অতিরিক্ত অবরোধের পরিকল্পনা করছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলো বৃহস্পতিবার বড় আকারের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে; রেলশ্রমিক, শিক্ষক ও বেসরকারি খাতের কর্মীরা ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে যোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভালো পরিবেশের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও কম বেতনের প্রতিবাদ জানাবেন।
স্কুল শিক্ষার্থীদের ইউনিয়ন রেনুভো লিসেয়াঁর নেতা নাতানায়েল কম্বারি, যিনি মাখোঁর মধ্যপন্থী দল রেনেসাঁসেরও সদস্য, বলেন শিক্ষার্থীদের আরও অর্থায়ন, উচ্চশিক্ষায় ভালো সুযোগ এবং জরাজীর্ণ স্কুল মেরামতের দাবি আদায়ে সরকারের সঙ্গে ‘শক্তির লড়াই’ চালিয়ে যেতে হবে। সরকার গত সপ্তাহে শ্রেণির আকার সীমিত করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের প্ল্যাটফর্ম পর্যালোচনার যেসব পদক্ষেপ দিয়েছে, তা অপর্যাপ্ত বলে তিনি বিএফএমটিভিকে জানান। তার ভাষ্যে, প্রতিবাদ ছাড়া সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে না — গণতান্ত্রিক দিক থেকে এটি ‘কিছুটা কলঙ্কজনক’ হলেও এটাই একমাত্র পথ।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, কয়েক সপ্তাহ পাঠদান বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাবর্ষ ও চূড়ান্ত পরীক্ষা এখন ঝুঁকিতে পড়েছে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি বলেন, শেষ বর্ষের লাখ লাখ শিক্ষার্থী ছুটিসহ চার-পাঁচ সপ্তাহ কোনো ক্লাস পায়নি; তাদের পাঠ্যক্রমের কোর্সওয়ার্ক শেষ করা বা পিছিয়ে পড়া অংশ পূরণ করা কঠিন হবে। তার ভাষ্যে, শিক্ষাবর্ষ ঝুঁকিতে পড়া মেনে নেওয়া যায় না।
জেফ্রে স্কুল অবরোধকে ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেন এবং শিশুদের ক্লাসে ফেরানোই তার অগ্রাধিকার বলে জানান।
দক্ষিণাঞ্চলীয় মঁপেলিয়ে শহরে একটি ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, স্কুল অবরোধের কাছে পুলিশের উদ্দেশে কিছু বলার পর ৫৩ বছর বয়সী এক স্কুল নার্সকে মুখ থুবড়ে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। সমাজতান্ত্রিক সিনেটর হুসেইন বুর্গি সরকারকে ‘অসদাচরণ’ ও ‘উসকানি’র অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। পুলিশ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় প্রিফেক্ট গ্রেপ্তারের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ওই নারী কর্মকর্তাদের অপমান করেছিলেন এবং পুলিশকে বাধা দিয়েছিলেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সারা ফ্রান্সে ৪১টি মাধ্যমিক স্কুল অবরোধের কবলে পড়েছে — যা দেশের মোট স্কুলের প্রায় ১ শতাংশ। শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর দাবি অনুযায়ী এই সংখ্যা ১৫০।
প্রধান শিক্ষকদের ইউনিয়ন এসএনপিডিইএন-ইউএনএসএর নিকোলা বোনে বলেন, এখন শিক্ষাদান ও শিক্ষার্থীদের সহায়তার কাজে ফেরার সময় হয়েছে। কোর্সওয়ার্ক, শেষ বর্ষের পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন। সরকার স্কুলের সমস্যা মেরামতে যথেষ্ট পদক্ষেপ দেয়নি বলে শিক্ষার্থীদের মনোভাব তিনি বোঝেন বললেও সরকার ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরও আলোচনার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে স্কুল শিক্ষার্থীদের ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে আবার বৈঠকে বসবেন।




