মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে কমল পেট্রলের দাম, গ্যালনপ্রতি গড় ৪.১৭ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পেট্রলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে থাকায় দাম এখনো উঁচু পর্যায়েই রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ করতে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই দাম কমেছে।
দৈনিক পেট্রলের দাম পর্যবেক্ষণকারী আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) অনুযায়ী, সোমবার সাধারণ পেট্রলের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি (৩.৭৮ লিটার) ৪.১৭ ডলার। এটি গত সপ্তাহের একই সময়ের তুলনায় ১২ সেন্ট এবং এক মাস আগের তুলনায় ২৩ সেন্ট কম।
তুলনায়, গত বছর এই সময়ে দাম ছিল ৩.০৪ ডলার। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম ইরানে হামলা চালায়, সেদিন দাম ছিল ২.৯৮ ডলার।
ডিজেলের দাম এখনো উঁচু—গ্যালনপ্রতি ৬.২৯ ডলার; তবে এটিও গত সপ্তাহের একই সময়ের তুলনায় ৬ সেন্ট কমেছে। সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম প্রথমবার গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়ায় এবং সর্বোচ্চ ৬.৫৩ ডলারে পৌঁছায়।
ফেডারেল তথ্যের ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এ পর্যন্ত পেট্রলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৩.৪৬ ডলার ছাড়িয়ে যেতে যাচ্ছিল, যা সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়কার আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে।
তেলের দামও কমছে। সপ্তাহান্তে কাতারে সরাসরি আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান থাকায় সোমবার তেলের দাম কমেছে ৬ শতাংশ।
গ্যাসবাডির পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ট্রাম্প আলোচনার পক্ষে ইঙ্গিত দেওয়ার পর এবং ইরানে নতুন হামলা না করার বার্তায় সকালে তেলের বাজারে বড় পতন হয়েছে; তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে, পাইকারি পেট্রল ও ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি প্রায় ১৬ সেন্ট কমার দিকে যাচ্ছে। তার ভাষায়, গতিপথ না বদলালে আগামী সপ্তাহে জাতীয় গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে।
ভোট দিতে যাওয়ার সময় জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টি ভোটারদের মনে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। গত মাসে এপি-এনওআরসি জরিপে দেখা গেছে, বেশির ভাগ আমেরিকান মনে করেন জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলা কংগ্রেসের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত; এর মধ্যে রিপাবলিকানদের ৭৮ শতাংশ ও ডেমোক্র্যাটদের ৮৯ শতাংশ এই মত দিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, এই সংঘাত শেষ হলে গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে কমে যাবে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাজের ফলে এখন পারস্য উপসাগর থেকে ইরান সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় বেশি তেল বের হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিটে মধ্যাহ্নের লেনদেনে তেল ও গ্যাস খাতের বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম কমতির দিকে ছিল। কনোকোফিলিপসের দাম কমেছে ৩.৭ শতাংশ, শেভরনের ২.৩ শতাংশ এবং এক্সনমোবিলের ৩.৩ শতাংশ। তবে প্রধান মার্কিন সূচকগুলো সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ছিল—ন্যাসডাক বেড়েছে ০.৭ শতাংশ, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেড়েছে ০.৬ শতাংশ এবং ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ বেড়েছে ১ শতাংশ।


