জাম্বিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানাল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
জাম্বিয়ার কর্তৃপক্ষের প্রতি রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চলমান নির্বাচন-পরবর্তী দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংগঠনটি বলছে, আগস্টে বিতর্কিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমার জয়ের পর থেকে এই দমন-অভিযান শুরু হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ কর্তৃপক্ষের কাছে তীব্র হতে থাকা এই দমন-পীড়ন থামানোর দাবি জানায়। সংগঠনটির অভিযোগ, জাম্বিয়া সরকার সমালোচকদের কণ্ঠরোধ করছে—বিরোধী দলের কয়েকজন সদস্য, সাংবাদিক ও আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং গত কয়েক মাসে কেউ কেউ নিখোঁজও হয়েছেন।
এইচআরডব্লিউ বলেছে, ‘ভীতি, হয়রানি ও দমনের নির্বাচন-পরবর্তী পরিবেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ওপর, বিশেষ করে ভিন্নমতের কণ্ঠগুলোর ওপর, শীতল প্রভাব ফেলেছে।’
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগের ও পরের দিনগুলোতে জাম্বিয়ার পুলিশ ও সামরিক বাহিনী বিরোধী দলের সদস্য-সমর্থকদের পাশাপাশি আইনজীবী, সাংবাদিক ও সরকারের সমালোচকদের জোরপূর্বক গুম করেছে, নির্বিচারে আটক করেছে, মারধর করেছে ও হুমকি দিয়েছে।
এইচআরডব্লিউর আফ্রিকাবিষয়ক উপপরিচালক আশওয়ানি বুদু-শোলৎজ বলেন, ‘জাম্বিয়ার সরকারের উচিত দমনের এই বিপজ্জনক চক্র ভাঙা।’ তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, চলমান দমন-পীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, আটক ব্যক্তিদের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ ও চিকিৎসাসেবার সুযোগ দিতে হবে, নির্বিচারে আটক সবাইকে মুক্তি দিতে হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
আগস্টের জয়ের পর হিচিলেমা দ্বিতীয় মেয়াদে জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তবে সমালোচকদের দাবি, নির্বাচনে ভোট কারচুপি হয়েছে।
রাজধানী লুসাকার ন্যাশনাল হিরোস স্টেডিয়ামে হিচিলেমার শপথ অনুষ্ঠানের সময় তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রায়ান মুন্দুবিলে আটক অবস্থায় ছিলেন। নির্বাচনে বিরোধীরা জিতেছে—এমন দাবি করার পর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়।
১৩ আগস্টের নির্বাচনের পরদিন পুলিশ মুন্দুবিলের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেই অভিযানের সময় সাবেক মন্ত্রিসভা সদস্য মুতোতওয়ে কাফওয়ায়া গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এইচআরডব্লিউ এ ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা আরও প্রায় এক ডজন বিরোধী নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর কর্তৃপক্ষ হঠাৎ দেশের সব আদালত বন্ধ করে দেয়। জাম্বিয়া পুলিশ একে ‘গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করলেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এইচআরডব্লিউর মতে, আদালত বন্ধ থাকায় বিরোধীরা ভোটের ফল নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাচ্ছে না।




