অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে শুনানি শুরু হচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আনা আইনি চ্যালেঞ্জের শুনানি মঙ্গলবার দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে শুরু হচ্ছে। দুই দিনের এই শুনানি বিশ্বজুড়ে নজর কেড়ে নেওয়া নীতিটির জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট নামে একটি ডিজিটাল অধিকার সংগঠন হাইকোর্টে যুক্তি দেবে, এই নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মুক্ত যোগাযোগের অধিকার কেড়ে নেয়। প্ল্যাটফর্ম রেডিটের আনা পৃথক চ্যালেঞ্জটিও একই সঙ্গে শুনানি হবে।
গত ডিসেম্বরে চালু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা অনলাইন নিরাপত্তায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাম্প্রতিক বড় পরিবর্তনগুলোর একটি মূল অংশ। সমর্থকদের দাবি, এটি ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে শিশুদের রক্ষা করে; তবে সমালোচকদের মতে, এটি অতিরিক্ত মাত্রায় কঠোর একটি ব্যবস্থা এবং জোর দেওয়া উচিত ছিল অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর দিকে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে, গত ১০ ডিসেম্বরের আগেই সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জটি দাখিল করে ডিজিটাল ফ্রিডম প্রজেক্ট। সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলসের সংসদ সদস্য জন রাডিক।
মামলাটি প্রথমে এগিয়ে নেওয়া দুই কিশোর নোয়া জোনস ও ম্যাসি নেইল্যান্ড ইতিমধ্যে বাদী হিসেবে সরে দাঁড়িয়েছেন, তবে জোনস মঙ্গলবারের শুনানিতে উপস্থিত থাকবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
গত নভেম্বরে আইনি চ্যালেঞ্জ নিয়ে জোনস বলেছিলেন, অনলাইনে খারাপ জিনিস আছে ঠিকই, কিন্তু ১৬ বছরের নিচে সবার জন্য ঢালাও নিষেধাজ্ঞা সঠিক সমাধান নয়। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক মাধ্যমগুলোর অর্থ ও সম্পদ সরকারের জরিমানা এড়াতে না খরচ করে শিকারি ও ক্ষতিকর কনটেন্ট দূর করতে ব্যবহার করা উচিত।
রেডিটও নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করেছে; তাদের যুক্তি, এই নীতির গোপনীয়তা ও রাজনৈতিক অধিকারের ওপর গুরুতর প্রভাব রয়েছে।
যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস গত বছর বলেছিলেন, আইনি হুমকিতে সরকার ভয় পাবে না। তিনি বলেন, 'বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ার বাবা-মায়েদের পক্ষে আমরা দৃঢ় থাকব।'
নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট, এক্স, কিক, থ্রেডস ও টুইচ — এই ১০টি প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ যেন সাইট ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিতে 'যথাযথ পদক্ষেপ' নিতে হয়। গুরুতর বা বারবার লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার (৭ কোটি মার্কিন ডলার) জরিমানার বিধান রয়েছে, তবে নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর থেকে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়নি।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরকারী সংস্থা ই-সেফটি কমিশনার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা অসম্মতির বিষয়ে একাধিক তদন্ত শুরু করেছে। হোয়াটসঅ্যাপ, রবলক্স ও ডিসকর্ডের মতো গেমিং সাইট এবং ইউটিউব কিডস ও গুগল ক্লাসরুমের মতো শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রথম কয়েক দিনে তিনটি নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মের মালিক মেটা জানিয়েছিল, তারা প্রায় পাঁচ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। অনেক শিশু বলেছে, বয়স যাচাইয়ের ধাপ — ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ছবিসহ পরিচয়পত্র বা সেলফি আপলোড — সহজেই এড়িয়ে যাওয়া গেছে।




