মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকাতে পুরো গোয়েন্দা বাহিনীকে মাঠে নামালেন হেগসেথ, মিশনের নাম ‘নো-ফেইল’

মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিদেশি প্রতিপক্ষ যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাঁর পুরো সামরিক গোয়েন্দা ও সাইবার বাহিনীকে কাজে লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরে দেওয়া এই নির্দেশে তিনি নির্বাচন সুরক্ষাকে ‘নো-ফেইল মিশন’ — অর্থাৎ ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই এমন মিশন — হিসেবে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন।
নির্দেশটি শুধু মার্কিন সাইবার কমান্ড ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) পর্যন্ত সীমিত নয়; পুরো ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এন্টারপ্রাইজকে — সামরিক ও ভূ-স্থানিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোসহ — বিদেশি নির্বাচনী হুমকির বিরুদ্ধে ‘সব অনুমোদিত সম্পদ, সক্ষমতা ও অংশীদারত্ব’ কাজে লাগাতে বলা হয়েছে।
বাস্তবে এই নির্দেশের মানে হলো, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিদেশি হ্যাকার বা প্রভাব বিস্তারকারী কার্যক্রম শনাক্ত করবে, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুর দিকে আসা হুমকির ব্যাপারে বেসামরিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক করবে এবং অনুমোদন থাকলে সাইবার কমান্ড বিদেশি হামলাকারী বা তাদের অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
তবে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সীমানার বাইরেই থামে। নির্বাচন পরিচালনা করেন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারা, আর দেশের ভেতরের নির্বাচন সুরক্ষার কাজ সামলায় এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মতো বেসামরিক সংস্থা। নির্দেশটি কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য দিতে প্রতিরক্ষা বিভাগ রাজি হয়নি; সাইবার কমান্ডও নির্বাচন সুরক্ষা নিয়ে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে।
পেন্টাগনের নির্বাচন সুরক্ষা মিশন নতুন নয়। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ও পরবর্তী ‘রাশিয়াগেট’ কেলেঙ্কারির পর থেকে বিদেশি হস্তক্ষেপ নিয়ে তদারকি বেড়েছে। সাইবার কমান্ড ও এনএসএ আগের নির্বাচন চক্রগুলোতে রুশ কর্মীদের লক্ষ্য করে অভিযানসহ বিদেশি হুমকি অনুসরণ ও ব্যাহত করার কাজ করে এসেছে।
এই প্রচেষ্টার বর্তমান রূপ নেওয়া শুরু হয় ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, যখন সংস্থা দুটি বিদেশি হস্তক্ষেপে মনোযোগী ‘রাশিয়া স্মল গ্রুপ’ গঠন করে। পরে তা যৌথ ইলেকশন সিকিউরিটি গ্রুপে রূপ নেয়, যেখানে এনএসএর গোয়েন্দা সংগ্রহের সক্ষমতার সঙ্গে সাইবার কমান্ডের বিদেশি সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সক্ষমতা যুক্ত হয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্যও সংস্থাগুলো আবার ইলেকশন সিকিউরিটি গ্রুপ গঠন করেছিল, তবে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য সেই কাঠামো আবার তৈরি হয়েছে কি না, তা কম স্পষ্ট।
২০২২ সালে তৎকালীন সাইবার কমান্ড ও এনএসএ প্রধান জেনারেল পল নাকাসোন নির্বাচন সুরক্ষাকে ‘স্থায়ী, নো-ফেইল মিশন’ বলে বর্ণনা করেছিলেন — চার বছর পর হেগসেথের নির্দেশে একই ভাষা ফিরে এসেছে। বর্তমান সাইবার কমান্ড ও এনএসএ প্রধান জেনারেল জশুয়া রাড এপ্রিলে আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিদেশি হস্তক্ষেপ ‘আশা করা যুক্তিসংগত’ এবং তাঁর কমান্ড প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার জন্য ‘প্রস্তুত’ রয়েছে; তবে ইলেকশন সিকিউরিটি গ্রুপ আবার ডাকা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি তখন নিশ্চিত ছিলেন না।
পাঁচ মাস পর হেগসেথ বিভাগজুড়ে নির্দেশটি জারি করেন, যা শুধু সাইবার কমান্ড ও এনএসএর কাছে নয়, ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি ও ন্যাশনাল জিওস্পেশাল-ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির পরিচালকদের কাছেও পাঠানো হয়। নির্দেশে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিদেশি নির্বাচনী হুমকি নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য বিদেশি সাইবার কার্যক্রম মোকাবিলায় সাইবার কমান্ডকে তার বিদ্যমান কর্তৃত্ব ও সক্ষমতা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এটি প্রকাশ্যে কোনো নতুন কর্তৃত্ব দেয়নি বা নতুন নির্বাচন সুরক্ষা সংস্থা তৈরি করেনি।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কোনো বিদেশি প্রতিপক্ষ ভোটযন্ত্র, ভোটের ভৌত অবকাঠামো বা ভোট গণনায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে — এমন প্রমাণ তাঁরা দেখেননি। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির র্যাংকিং সদস্য প্রতিনিধি জিম হাইমস গত সপ্তাহে বলেছেন, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনো সেই মূল্যায়নের বিরোধী কিছু দেখছেন না, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এ ধরনের প্রচারণা ছড়ানো সহজ করে দেওয়ায় বিদেশি ভুল তথ্যের ব্যাপারে আমেরিকানদের ‘উচ্চ সতর্ক’ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তবে কর্মকর্তারা রাশিয়া, চীন ও ইরানের বিদেশি প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা অনুসরণ করছেন; সিএনএনের রোববারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়াই সবচেয়ে সক্রিয় বিদেশি প্রভাব হুমকি। গত মাসে গোপন গোয়েন্দা ব্রিফিং পাওয়া আইনপ্রণেতারা বলেছেন, রাশিয়া ভুল তথ্য ব্যবহার করে প্রার্থীদের লক্ষ্য করছে এবং নির্বাচনের প্রতি আস্থা দুর্বল করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে চীনের প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা বেইজিংয়ের প্রতি বৈরী হিসেবে দেখা প্রার্থীদের মধ্যেই বেশি সীমিত।
হেগসেথের নির্দেশ বিদেশ থেকে আসা হুমকির এই মিশনকে সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থাজুড়ে অগ্রাধিকার দিলেও নির্বাচনের দিনের আগে এর ফলে অতিরিক্ত জনবল, সম্পদ বা সাংগঠনিক পরিবর্তন এসেছে কি না, পেন্টাগন তা প্রকাশ করেনি।




