যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে এবার নতুন ‘ভোটার পোল’: কে জিতলেন আর কেন জিতলেন, জানাবে এই জরিপ

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিনে কে জিতলেন এবং কেন জিতলেন — এই দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবার নতুন একটি জরিপ পদ্ধতি ব্যবহার করছে এবিসি নিউজ। ‘ভোটার পোল’ নামের এই জরিপ আগের পরিচিত এগজিট পোলের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য দেবে বলে জানানো হয়েছে।
এবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার পোল শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাবই দেবে না; কোন কোন বিষয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলো কীভাবে ভোট দিয়েছে, সেটাও এই জরিপ থেকে জানা যাবে। নির্বাচনের দিন টেলিভিশন সম্প্রচারে উপস্থাপক ও বিশ্লেষকেরা এত দিন এগজিট পোলের তথ্য উল্লেখ করে এসেছেন; এবারের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে সেই জায়গায় ভোটার পোল ব্যবহৃত হচ্ছে।
জরিপটি পরিচালনা করছে গবেষণা সংস্থা এসএসআরএস। এবার সিনেট বা গভর্নর পদে নির্বাচন হচ্ছে এমন প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোটার পোল করা হচ্ছে — মোট ৪৫টি অঙ্গরাজ্যে। পাশাপাশি সব অঙ্গরাজ্য জুড়ে একটি জাতীয় ভোটার পোলও করা হচ্ছে, যার নমুনার আকার আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক বড় হবে।
ভোটার পোলের কাজ শুরু হয় নির্বাচনের দিনের ঠিক আগে সম্ভাব্য ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে। অনলাইন, ডাকযোগে পাঠানো পোস্টকার্ড, টেক্সট মেসেজ, ইমেইল ও টেলিফোন কল — একাধিক মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানো হয়।
আগাম জরিপে অংশ নেওয়া যেসব উত্তরদাতা প্রথম যোগাযোগের সময় পর্যন্ত ভোট দেননি, তাঁদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা হয় নির্বাচনের আগের দিন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা থেকে শুরু করে নির্বাচনের দিন প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় পর্যন্ত। এই দ্বিতীয় দফা যোগাযোগে নিশ্চিত করা হয়, ওই ব্যক্তি ভোট দিয়েছেন কি না, কোন পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন এবং তাঁর চূড়ান্ত ভোটের পছন্দ কী ছিল।
এর পাশাপাশি কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রচলিত এগজিট পোলও করা হচ্ছে এবং সেই তথ্যও ভোটার পোলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এগজিট পোলে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসা ভোটারদের ওপর জরিপ চালানো হয়; এলোমেলোভাবে বাছাই করা কেন্দ্রগুলোর বাইরে দাঁড়িয়ে জরিপকারীরা নির্দিষ্ট ব্যবধানে — যেমন প্রতি পঞ্চম বা নবম ভোটারকে — থামিয়ে অংশ নিতে বলেন। সম্মত ভোটারেরা একটি সংক্ষিপ্ত ও গোপনীয় প্রশ্নপত্র পূরণ করে ব্যালট বাক্সে ফেলেন।
সব পদ্ধতিতে সংগৃহীত তথ্য একত্র করে যথাযথভাবে ওজন (ওয়েটিং) দেওয়া হয়, যাতে ভোটার কখন বা কোন পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন, তা নির্বিশেষে সব ভোটারের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।
ভোটার পোলের প্রশ্নপত্রে জানতে চাওয়া হয়, উত্তরদাতা কাকে ভোট দিয়েছেন, তাঁর জনমিতিক পরিচয় কী, প্রার্থীদের সম্পর্কে তাঁর মতামত কী এবং অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন, অপরাধ ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর মত কী।
এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অন্য যেকোনো জরিপের মতো ভোটার পোলেও নমুনাজনিত ও অন্যান্য ত্রুটির সম্ভাবনা থাকে। তাই কোনো ফলাফল প্রকাশ বা বিজয়ী সম্পর্কে পূর্বাভাস দেওয়ার আগে সংবাদ সংস্থাগুলো গভীর মাননিয়ন্ত্রণ যাচাই করে; ফলাফলকে আগাম নির্বাচনী জরিপ ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের ভোটের ইতিহাসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় এবং পরিসংখ্যানবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা তথ্য সতর্কভাবে পর্যালোচনা করেন।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ভোটার পোলের ফলাফলকে প্রকৃত ভোটের হিসাব দিয়ে ওজন করা হয়, যাতে তথ্য আরও নির্ভুল হয়। প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান বড় হলে কোনো কোনো আসনে বিজয়ীর পূর্বাভাসে ভোটার পোল ব্যবহার করা হতে পারে; তবে বেশিরভাগ পূর্বাভাসই ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রকৃত ভোটের তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়।
নির্বাচনের দিন ভোটার পোলের প্রাথমিক দফার কোনো তথ্যের ওপর পূর্বাঞ্চলীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত কঠোর নিষেধাজ্ঞা (এমবার্গো) থাকবে। ওই দিন প্রায় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে ভোটারদের জনমিতি ও মূল বিষয়গুলোতে তাঁদের মতামত সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক তথ্য এবিসিনিউজ ডটকমে পাওয়া যাবে। কোনো অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেই রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ ভোটার পোল ক্রসট্যাব — অর্থাৎ বিভিন্ন উপগোষ্ঠী কীভাবে ভোট দিয়েছে, তার তথ্যছক — একই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এবিসি নিউজ প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত সর্বশেষ ভোটগ্রহণ-শেষের সময়ের আগে কোনো বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে না। ভোটগ্রহণ শেষের সময়ে কোনো আসনের পূর্বাভাস দেওয়া না গেলে, প্রকৃত ভোটের তথ্য যুক্ত করে তথ্য যথেষ্ট হলেই পূর্বাভাস দেওয়া হবে, এবং সারা সন্ধ্যা জুড়ে এবিসিনিউজ ডটকম ও এবিসি নিউজের সব অনুষ্ঠানে তথ্য হালনাগাদ করা হবে। এই ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনটি লিখেছেন এবিসি নিউজের পোলিং, নির্বাচন ও ডেটা অ্যানালিটিকস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড্যান মার্কেল।




