যশোরে মাকে বঁটি দিয়ে হত্যার অভিযুক্ত শিক্ষক মামুনুর রশিদের কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু

যশোরে বঁটির কোপে মায়ের মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষক মামুনুর রশিদ (৪৫) কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (১ নভেম্বর) রাতে তার মৃত্যু হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যশোর কারাগারে বন্দি অবস্থায় গত ২৮ অক্টোবর মামুনুর রশিদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ওই দিনই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মামুনুর রশিদ যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন। তার মায়ের নাম আনোয়ারা বেগম (৫৮)।
গত ২৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাজে দুর্গাপুর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে মামুনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি ধারালো বঁটি দিয়ে মাকে মাটিতে ফেলে গলায় কোপ দেন। এতে আনোয়ারা বেগমের শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে মামুন বঁটি ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা হয় এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রায় আট-নয় বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন তিনি; দাম্পত্য কলহের জেরে সেই বিয়ে বিচ্ছেদে গড়ায়। পরে ঝিকরগাছার অমৃতবাজার গ্রামের রিনাকে বিয়ে করেন মামুন, তবে প্রায় ছয় বছর আগে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গেও তার বিচ্ছেদ হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য মামুন তার মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে মায়ের সঙ্গে আগেও তার বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি দুই থেকে তিন মাস চিকিৎসা নেন। দীর্ঘদিন বাড়িতে না থাকার পর প্রায় পাঁচ বছর পর গত ২৭ আগস্ট তিনি বাড়িতে আসেন — আর সেদিনই ঘটে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ড।
কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর থেকে মামুন কারা হেফাজতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। যশোর থেকে খুলনায় স্থানান্তরের চার দিন পর হাসপাতালেই তার মৃত্যু হলো।




