২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও হাসপাতালে এআই ম্যালওয়্যার হামলার আশঙ্কা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়্যার ২০২৮ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও হাসপাতালে হ্যাকিং হামলায় ব্যবহৃত হওয়া ‘খুবই সম্ভব’ বলে সতর্ক করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা।
ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি) বলেছে, এখন থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এআই সম্ভবত যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর (সিএনআই) বিরুদ্ধে একটি র্যানসমওয়্যার হামলা সম্ভব করে তুলবে। যুক্তরাজ্যের সংজ্ঞায় সিএনআইয়ের মধ্যে জ্বালানি, পরিবহন, প্রতিরক্ষা, খাদ্য, স্বাস্থ্য ও অর্থসহ বিভিন্ন খাতের স্থাপনা ও সেবা পড়ে।
গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউর অংশ এনসিএসসি এই সতর্কতা দিয়েছে তার বার্ষিক পর্যালোচনায়। ওই পর্যালোচনায় আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীন সাইবার হামলায় এআই ‘নিয়মিতভাবে’ ব্যবহার শুরু করবে। সংস্থাটি বলেছে, ‘এখন থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে এআই-চালিত ম্যালওয়্যার যুক্তরাজ্যের সিএনআইয়ের ওপর র্যানসমওয়্যার হামলায় ব্যবহৃত হয়ে থাকবে, এটা খুবই সম্ভব।’
র্যানসমওয়্যার এখন অপরাধী হ্যাকারদের প্রধান হাতিয়ারগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের আইটি ব্যবস্থায় ঢুকে হামলাকারীরা বিশেষ ম্যালওয়্যার দিয়ে ফাইল এনক্রিপ্ট করে ফেলে, তারপর আটকে যাওয়া ব্যবস্থা খুলে দিতে ও চুরি করা তথ্য ফেরত দিতে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ দাবি করে। যুক্তরাজ্যে এর শিকার হয়েছে রয়্যাল মেইল, আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটা এবং বিভিন্ন পরিষদসহ নানা সরকারি সংস্থা।
এনসিএসসির মতে, লক্ষ্য খুঁজে বের করা, আইটি নেটওয়ার্কের দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং ক্ষতিকর কোড লেখার মতো কাজে হামলাকারীদের সাহায্য করে এআই র্যানসমওয়্যারের হুমকি আরও বাড়িয়ে তুলবে।
গত মাসে সরকার ব্রিটিশদের নয় লিটার বোতলজাত পানি ও তিন দিনের খাবার মজুত রাখার আহ্বান জানিয়েছিল, যাতে আবহাওয়া, সাইবার বা অন্য কোনো গুরুতর জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো টিকে থাকতে পারে। ‘বি রেডি’ প্রচারণা শুরুর সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছিলেন, রাশিয়া বা অন্য শত্রু শক্তির দৈনন্দিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ‘রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষক সন্ত্রাস’-এর হুমকির জন্য ব্রিটেনকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এনসিএসসির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হর্ন মঙ্গলবার পর্যালোচনার সঙ্গে দেওয়া বক্তৃতায় জনগণকে সতর্ক করে বলবেন, এআই শিগগিরই সাইবার হামলার ঢেউ বইয়ে দেবে। তিনি বলবেন, ‘আগামী মাসগুলোতে আমরা সাইবার ঘটনার সংখ্যায় নজিরবিহীন বৃদ্ধির বাস্তব সম্ভাবনার মুখোমুখি।’ হর্ন এই হুমকির কারণ হিসেবে বলবেন, প্রযুক্তিটি আইটি ব্যবস্থায় বহুদিন ধরে সহ্য করে আসা দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করতে পারে।
এআই কীভাবে আগে অজানা দুর্বলতা বের করতে পারে, তার একটি উদাহরণ গত মাসে দেখা গেছে—প্রযুক্তিটি পিএইচপি নামের একটি কম্পিউটার ভাষায় গুরুতর দুর্বলতা আবিষ্কারে সাহায্য করেছিল। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এই ভাষা ব্যবহার করে।
সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাপক অ্যালান উডওয়ার্ড বলেছেন, এনসিএসসির সতর্কতা বোঝাচ্ছে রাষ্ট্র ও কোম্পানিগুলোর অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার দরকার। তিনি বলেন, ‘এআই মানুষকে এসব ত্রুটি খুঁজে মেরামত করতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু আমরা সেই প্রবেশাধিকার না পেলে খারাপ লোকেরাই আগে পৌঁছে যাবে।’ এখন পর্যন্ত ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষ এআই কোম্পানি কিছু কোম্পানিকে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী মডেলে অগ্রিম প্রবেশাধিকার দিয়েছে, যাতে তারা গুরুতর আইটি ত্রুটি শনাক্ত করতে পারে।
হর্ন তাঁর বক্তৃতায় আরও বলবেন, ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রতিদিন ‘অবিরাম’ ও ‘টানা’ হামলার শিকার হচ্ছে। তিনি বলবেন, হামলাকারীদের একটি রাশিয়া, তবে এসব হামলা ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধের সীমা অতিক্রম করেনি; মস্কো ‘উল্লেখযোগ্য অভিযান’ চালাচ্ছে যা হাইব্রিড যুদ্ধের প্রচেষ্টা বাড়ানোর মধ্যেও ‘সশস্ত্র সংঘাতের সীমার নিচে ইচ্ছাকৃতভাবে’ রাখা হয়েছে।
হর্ন আরও বলবেন, ইউরোপে সুপারমার্কেটের ফ্রিজে সাম্প্রতিক সাইবার হামলা—যেখানে হ্যাকাররা ফ্রিজের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তুলে দিয়েছিল—কোম্পানি ও সংস্থাগুলোর জন্য সাইবার স্থিতিস্থাপকতায় জোরালো বিনিয়োগের সতর্কবার্তা। তাঁর ভাষায়, ‘দশকের পর দশক আমরা সবাই সস্তায় প্রযুক্তি চালিয়ে পার পেয়ে গেছি।’




