ক্যাম্প ন্যুতে আজ বার্সেলোনার সামনে শতভাগ জয়ী অ্যাস্টন ভিলা, ইয়ামালের সামনে রেকর্ড

চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে স্বপ্নের শুরু করেছে অ্যাস্টন ভিলা। এবার তাদের সামনে বার্সেলোনা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হবে দুই দল। একদিকে উনাই এমেরি নামছেন শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রাখার লক্ষ্যে; অন্যদিকে হান্সি ফ্লিকের বার্সেলোনা পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের পর ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া।
লিগ পর্বে প্রথম তিন ম্যাচে জিতে নয় পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভিলা। অন্যদিকে তিন ম্যাচে ছয় পয়েন্ট নিয়ে অষ্টম স্থানে বার্সেলোনা। গত ম্যাচে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হারের পর ইউরোপে আবার জয়ের ধারায় ফিরতে চাইবে কাতালানরা। মাঝে লা লিগায় এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের বিপক্ষেও ২-১ ব্যবধানে হেরেছে তারা। তবে ঘরোয়া লিগে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে বার্সা; ওই জয়ে দলটির কোচ হিসেবে ১৩১ ম্যাচে নিজের ১০০তম জয় তুলে নেন ফ্লিক।
বার্সেলোনার আক্রমণে নজর থাকবে লামিনে ইয়ামালের দিকে। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট আছে তাঁর। চ্যাম্পিয়নস লিগে কিশোর বয়সে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে কিলিয়ান এমবাপের সঙ্গে এখন সমতায় ইয়ামাল; দুজনেরই গোল ১৩টি। ভিলার বিপক্ষে আরেকটি গোল করতে পারলে এককভাবে রেকর্ডটি নিজের করে নেবেন স্প্যানিশ তরুণ।
তবে ভিলাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এমেরির দল শুধু তিন ম্যাচে তিন জয়ই পায়নি, ইউরোপীয় ফুটবলেও তাদের সাম্প্রতিক রেকর্ড দুর্দান্ত: সবশেষ ১৬ ইউরোপীয় ম্যাচের ১৪টিতেই জিতেছে তারা। চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচে গোল করেছে ১০টি। ফলে বার্সেলোনার রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে ইংলিশ ক্লাবটি।
এমেরির জন্য ম্যাচটির আলাদা তাৎপর্যও আছে। বার্সেলোনার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে তাঁর কোচিং রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়: ছয় ম্যাচে জয় মাত্র একটি, বাকি পাঁচটিতেই হার। ক্যাম্প ন্যুতে ফিরছেন তিনি এমন এক ভেন্যুতে, যেখানে তাঁর আগের অভিজ্ঞতাগুলোর একটি ছিল পিএসজির কোচ হিসেবে বার্সেলোনার কাছে ৬-১ গোলে হেরে যাওয়া।
দুই দলের ইউরোপীয় ইতিহাসেও আছে পুরোনো দ্বৈরথ। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে উয়েফা কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনা অ্যাগ্রিগেটে ৪-৩ গোলে জিতেছিল। তবে ১৯৮২ সালের উয়েফা সুপার কাপের দুই লেগে ৩-১ ব্যবধানে জিতে শিরোপা নেয় ভিলা।
ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার রেকর্ড অবশ্য বেশ শক্তিশালী: ২০০৭ সালের পর ঘরের মাঠে ইংলিশ ক্লাবের কাছে হারেনি তারা। অন্যদিকে স্পেনে ভিলার রেকর্ড দুর্বল: আট ম্যাচে জয় মাত্র একটি। পরিসংখ্যানের এই দুই বিপরীত চিত্রের মাঝেই হবে ম্যাচের আসল লড়াই।




