স্পিন উইকেটের চর্চাতেই নিজেদের ফাঁদে বাংলাদেশ: ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে টেস্টে একই ছবি

বিসিবির গ্রাউন্ডস বিভাগের নীতিনির্ধারকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে স্পিনবান্ধব উইকেটের বিষয়টি পরিষ্কার করে জানতে চেয়েছেন বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের প্রধান টনি হেমিং। ফিরতি বার্তায় জবাব দিয়েছেন গ্রাউন্ডস বিভাগের চেয়ারম্যান শাহনিয়ান তানিম।
হেমিং তাঁর বার্তায় বলেছেন, চার দিনের ক্রিকেটে ব্যাট ও বলের মধ্যে ভারসাম্য থাকা উচিত। নির্বাচকেরা যদি স্পিনের আধিপত্য চান, তাহলে টসের আগে পিচের উপরিভাগে কিছুটা ঘষামাজা বা ক্ষয় সৃষ্টি করা হলে সব ধরনের ধীরগতির বোলারদের জন্যই স্পিন-সহায়ক আচরণ তৈরি হবে।
জবাবে শাহনিয়ান তানিম বলেছেন, তারা এমন উইকেট চায়, যেখানে ম্যাচের তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে স্পিনারদের কিছুটা বাড়তি সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
দুজনের এই আলাপচারিতা ঠিক কত তারিখের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি এবারের জাতীয় লিগের (এনসিএল)। নির্বাচক প্যানেলের এক সদস্য দাবি করেছেন, এটি তৃতীয় রাউন্ডের আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে কয়েকজন টেস্ট ক্রিকেটারের ওই রাউন্ডে খেলার কথা ছিল। টিম ম্যানেজমেন্টের চাহিদা অনুযায়ী এনসিএলের উইকেট স্পিন-সহায়ক করার কথা আসে।
হেমিংয়ের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আলাপচারিতা যে জাতীয় লিগের উইকেট নিয়ে, তা তিনি অস্বীকার করেননি। আর দাবি করেছেন, এটি টেস্ট ক্রিকেট-সম্পর্কিত আলাপচারিতা নয়।
জাতীয় লিগে এবার কিছু নতুনত্ব আনতে চেয়েছে বিসিবি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটাররা প্রথমবারের মতো পেয়েছেন ব্যাগি টুপি ও ব্লেজার। কিন্তু মাঠের খেলায় চিত্র আগের মতোই — যথারীতি স্পিনারদের দাপট।
স্পিনারদের এই দাপট নিয়ে ওই নির্বাচক তাঁর ব্যাখ্যায় বলেছেন, এবার বল পরিবর্তন হয়েছে। বল বদলে যাওয়ায় এখন ফাস্ট বোলাররা সেভাবে সহায়তা পাচ্ছেন না। সে কারণে স্পিনাররা বেশি বল করছে। তাঁর ভাষায়, স্পিনার সফল হওয়ার অর্থ কিন্তু উইকেট স্পিন-সহায়ক নয়। আগের তিন মৌসুমে ডিউক বল দিয়ে খেলা হয়েছিল। তখন ৭০ শতাংশ বল করতেন পেস বোলাররা, ৩০ শতাংশ স্পিনাররা। এখন ঠিক উল্টো — ৭০ শতাংশ বল করছেন স্পিনাররাই, ৩০ শতাংশ পেসাররা।
টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত খাবি খাওয়ায় গত কয়েক বছর বিসিবি ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের উইকেটের চরিত্র ও বলে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। তাতে নাহিদ রানা-হাসান মাহমুদদের মতো পেসারদের তৈরি হওয়ার সুযোগ মিলছিল। এমনকি গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ স্পোর্টিং উইকেটে খেলার সাহস দেখিয়েছিল এবং প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করেছিল।
কিন্তু ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যথার্থ টেস্ট-সংস্কৃতির চর্চা না হলে এবং নিয়মিত স্পোর্টিং উইকেটে না খেলা হলে সমস্যা থেকে যায়। বহু আগে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের দেখিয়ে দেওয়া ফর্মুলায় ঘূর্ণি উইকেট তৈরি করেও যে ভালো ফল মেলে না, সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তা আরেকবার প্রমাণিত হয়েছে।
হাতের তালুর মতো চেনা মিরপুরের উইকেটে উইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে প্রতিপক্ষের যে ১২ উইকেট পড়েছে, বাংলাদেশের তিন স্পিনারের তাতে অবদান ৮ উইকেট। সেখানে ক্যারিবীয় স্পিনাররা স্বাগতিকদের ২০ উইকেটের ১৬টিই তুলে নিয়েছেন। ওয়ারিক্যানরা যেখানে গড়ে সাড়ে ৩ ডিগ্রিতে টার্ন পেয়েছেন, মিরাজরা সেটি আড়াই ডিগ্রির বেশি নিতে পারেননি।
ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকেই যেভাবে স্পিন-নির্ভরতার চর্চা চলে আসছে, টেস্টে এসে তাতেই আটকে পড়ে আবার যেন হাঁসফাঁস অবস্থা হয় বাংলাদেশের।




