গাজীপুরে তিন ঘণ্টা পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ছাড়লেন পোশাকশ্রমিকরা, যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও থমথমে শিল্পাঞ্চল

গাজীপুরে তিন ঘণ্টা অবরোধের পর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ছেড়ে দিয়েছেন পোশাকশ্রমিকরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থান ও সতর্কতার মুখে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলা অবরোধ শেষে বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে মহাসড়ক থেকে শ্রমিকরা সরে গেলেও শিল্পাঞ্চলজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট ও গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। এ সময় কয়েকটি স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করেন শ্রমিকরা। দীর্ঘ সময় অবরোধ চলায় এক্সপ্রেসওয়ের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুরের নাওজোর এলাকায় দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। মহাসড়কের পাশে ফেলে রাখা বর্জ্য সড়কে এনে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এ সময় জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোর মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে বাধা দিয়ে মহাসড়কে ক্রিকেট খেলতেও দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।
সকাল ৮টার কিছু আগে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায় কয়েকজন শ্রমিক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়াই তাদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেন।
একই সময়ে কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ মোড়েও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেছেন, সকাল থেকেই মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। নাওজোর এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা সেখান থেকে চলে যান।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করতেই পারেন; অতীতেও বিভিন্ন সময়ে তারা আন্দোলন করেছেন এবং আন্দোলনের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে পুলিশের ধারণা রয়েছে। তবে এবারের আন্দোলনের ধরন কিছুটা ভিন্ন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
বেলায়েত হোসেন আরও বলেছেন, নাওজোরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসার পর হঠাৎ করে ঢিল ছোড়া শুরু হয়; কেউ হয়তো এই ঘটনাকে উপলক্ষ করে একটি ইস্যু তৈরি করতে চাইছে। নাওজোর ও ভোগড়া বাইপাস এলাকার ব্যারিকেড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মহাসড়ক থেকে শ্রমিকরা সরে গেলেও নতুন করে বিক্ষোভ বা অবরোধের আশঙ্কায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।




