কেশবপুরে জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি পুলিশের, গ্রেপ্তার ২

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের ব্রাহ্মণডাঙ্গা এলাকায় চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) ও মোস্তফা কামাল (৪৫) নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা মাগুরখালী সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কাঁচিও উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মনিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে কেশবপুর থানার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের জনৈক প্রভাত বিশ্বাসের ধানখেতে সেচযন্ত্রের পানি পড়ার স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গ্রামবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে কেশবপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পিবিআইয়ের সহায়তায় মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আলেক নুর ইসলাম ও মাজেদা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার পর নিহতদের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।
মামলার পর কেশবপুর থানা-পুলিশের একটি চৌকস দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের ভিত্তিতে গত সোমবার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও তদন্তের সূত্র ধরে অপর আসামি মোস্তফা কামালকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদ ও আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, গত ৩০ অক্টোবর জেসমিন বেগম ও নিহত মাজেদা ঘাস কাটার উদ্দেশ্যে মাঠে যান। পূর্বপরিচিত মোস্তফা কামালের সঙ্গে জেসমিনের দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ মাস ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। ঘটনার দিন মাঠে পৌঁছানোর পর মোস্তফার সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। একপর্যায়ে মাজেদা তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং জেসমিনের নাম ধরে ডাক দেন। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
ঘটনার কথা জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মোস্তফা ও জেসমিন কৌশলে মাজেদা ও আলেককে কলমিশাক তোলার কথা বলে ঘেরের পাশে নিয়ে যান। পথে তালতলার ভেড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে মোস্তফা তাঁর হাতে থাকা পাসনি দিয়ে আলেক নুর ইসলামের বগলের নিচে ও মাথায় আঘাত করেন। একই সময়ে জেসমিন মাজেদার ওড়না দিয়ে তাঁর গলায় ফাঁস দিয়ে কলাগাছের আড়ালে ফেলে রাখেন।
সহকারী পুলিশ সুপার ইমদাদুল হক আরও বলেন, আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং মোস্তফার পাসনির আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে পড়ে যান। তিনি সেখান থেকে আর উঠতে পারেননি। অন্যদিকে মাজেদাকে গলায় ফাঁস দেওয়ার পরও তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাস চলতে দেখে অভিযুক্তরা কাঁচি দিয়ে মাজেদার তলপেট ও পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁকে সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেন।
আলেক মারা যাওয়ার পর তাঁর শরীর গামছা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি ঘেরের পানিতে ধুয়ে আলামত গোপনের চেষ্টা করা হয়।
জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।




