ঢাকায় ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট, ছয় হাজার মানুষের সমাগমের প্রত্যাশা
রাজধানী ঢাকায় আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’। দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রায়োগিক ব্যবহার বাড়ানো, ব্যবসা-বাণিজ্যের ডিজিটাল রূপান্তর এবং আধুনিক উদ্ভাবনে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়ে এই জাতীয় প্রযুক্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
‘এআই-ফিকেশন ফর টুমরোজ ইকোনমি’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থেকে এই প্রযুক্তি সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের প্রকাশিত রূপরেখা অনুযায়ী, সম্মেলনে একটি উদ্বোধনী অধিবেশন ছাড়াও তিনটি পৃথক বিশেষায়িত বিষয়ভিত্তিক অধিবেশন পরিচালিত হবে। এসব অধিবেশনে প্রধান অতিথি, বিশেষ আলোচক ও প্রযুক্তি বিশারদ মিলিয়ে দেশ-বিদেশের প্রায় ২৭ জন বক্তা মতামত তুলে ধরবেন।
সম্মেলনে বাণিজ্য প্রতিনিধি, করপোরেট নীতিনির্ধারক, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, গবেষক ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় ও ডিসিসিআইয়ের আমন্ত্রণে প্রায় দুই হাজার বিশিষ্ট অতিথি এবং প্রতিটি অধিবেশনে দুই শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
সম্মেলনের অংশ হিসেবে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সেবা প্রদর্শনের জন্য প্রায় ১৪২টি স্টল নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ও পাকিস্তানের চারটিসহ মোট পাঁচটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের আধুনিক এআই সেবা তুলে ধরবে।
প্রদর্শনীতে দেশের ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি কলেজসহ মোট ২০টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রোটোটাইপ সরাসরি প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তি গবেষণার অগ্রযাত্রাকে তুলে ধরবে।
সম্মেলনে মূলত ব্যবসা ও শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতায় এআই প্রযুক্তির সন্নিবেশ, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্ভাবন, একাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যকার মেলবন্ধন, দায়িত্বশীল এআই নীতি প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, এই আসরটি কেবল প্রযুক্তির বিকাশেই ভূমিকা রাখবে না, বরং দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


