গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগুয়েলের, পরিত্যক্ত হলো ম্যাচ

ফুটবল মাঠে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগুয়েল। ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব তেনেরিফে।
মৃত্যুকালে দে মিগুয়েলের বয়স হয়েছিল ৩০ বছর। তাঁর পুরো নাম হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদা। ক্লাবটি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাতে এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে। তেনেরিফের মাঠ এস্তাদিও হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি তখন যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে পৌঁছেছে। ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা তেনেরিফের হয়ে ৫৯ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন দে মিগুয়েল। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় পৌঁছায়।
ম্যাচের এক পর্যায়ে তেনেরিফের রক্ষণভাগ থেকে ক্লিয়ার করা বলটি মাঝমাঠের দিকে চলে যায়। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে এগিয়ে আসেন এফসি আন্দোরার গোলরক্ষক ও নিরক্ষীয় গিনির জাতীয় দলের ফুটবলার হেসুস ওওনো। সেই সময় দে মিগুয়েলের সঙ্গে তাঁর ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গোলরক্ষকের হাঁটু দে মিগুয়েলের বুকে আঘাত করে।
সংঘর্ষের পরপরই মাঠে লুটিয়ে পড়েন দে মিগুয়েল। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দুই দলের খেলোয়াড়েরা দ্রুত চিকিৎসাকর্মীদের মাঠে ডেকে পাঠান। গোলরক্ষক ওওনোকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। পরে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন দে মিগুয়েল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই ফুটবলার।
শোকবার্তায় তেনেরিফে লিখেছে, ‘ব্যথায় ভেঙে পড়েছি আমরা। গলা ধরে আসছে, কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছি না। আমরা হেসুস দে মিগুয়েল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। কোনো শব্দই এই কষ্ট কমাতে পারবে না, কোনো কিছুই এই গভীর শূন্যতা পূরণ করতে পারবে না। তাঁর পরিবার, ঘনিষ্ঠজন এবং তেনেরিফের সমর্থকদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা।’



