টানা পতনে ডিএসইএক্স পাঁচ মাসের সর্বনিম্নে, সূচক নামল ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবারেও দেশের প্রধান দুই পুঁজিবাজারে বড় দরপতনের মধ্য দিয়ে দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে। এদিনের ধারাবাহিক পতনের ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বিগত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে; এর আগে চলতি বছরের ২৩ মে ডিএসইএক্স সূচকটি ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছিল।
দিনশেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৭ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৩০ পয়েন্টে এবং শীর্ষ ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট হারিয়ে ২ হাজার ২১ পয়েন্টে নেমে এসেছে।
দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৬৮টির দর বেড়েছে, দাম হারিয়েছে ২৬৭টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর। তবে দরপতনের মাঝেও বাজারে লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার তুলনায় ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, সহিংসতা ও রাজপথের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে দেশের পুঁজিবাজারে। কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, আন্তর্জাতিক রপ্তানি আদেশ ঝুঁকির মুখে পড়া এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই অনিশ্চয়তা বাজারে ব্যাপক বিক্রয়চাপের সৃষ্টি করেছে, যার জেরে ঢালাও দরপতন ঘটছে।
এদিন ডিএসইতে একক লেনদেনের শীর্ষে আধিপত্য বিস্তার করে বস্ত্র খাত। সর্বোচ্চ ৩২ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়ে তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের লেনদেন হয়েছে ২৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার এবং ১৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে আসে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয় ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজীবাজার পাওয়ার, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মালেক স্পিনিং ও সায়হাম টেক্সটাইল।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে নেমে আসে সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, যার ইউনিট দর ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তালিকায় থাকা অন্য দর হারানো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সায়হাম টেক্সটাইল, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, তুংহাই নিটিং, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স, বিএসআরএম, পিপলস লিজিং, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স উল্লেখযোগ্য।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বড় দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। দিনশেষে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৭৪ পয়েন্ট হারিয়ে ১৪ হাজার ২১৪ পয়েন্টে ঠেকেছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪টি প্রতিষ্ঠানের দর। এদিন সিএসইতে মোট ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।


