‘টাকার লোভ সামলাতে পারিনি’: ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় রিয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র
‘আমি গরিবের ছেলে, টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।’ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেছেন আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ, যিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয় দিতেন। তাঁসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলাটি করা হয়েছিল সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মামলার তদন্তে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় এবং সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সত্যতা মিলেছে।
অভিযোগপত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার শুরু ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে। ওই রাতে শাম্মী আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের কথা বলে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর গুলশানের বাসায় যান রিয়াদ ও জানে আলম অপু। তল্লাশিতে শাম্মী আহম্মেদকে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। এরপর ওই দুজন পুলিশ ছাড়াই আবার বাসায় প্রবেশ করেন।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, বাসার মালিক সিদ্দিক আবু জাফরকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ভয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এই টাকা নেওয়ার ভিডিও ফুটেজও পিবিআইয়ের হাতে রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
এরপর ২৬ জুলাই বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য আসামিরা আবার ওই বাসায় যান। তখন মালিকের অভিযোগে পুলিশ রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহায়তায় পলাতক জানে আলম অপুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রধান আসামি আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ ও আরেক আসামি জানে আলম অপু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ আছে।
জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেছেন, টাকার লোভ সামলাতে না পেরেই তিনি চাঁদা চেয়েছিলেন। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘আমি গরিবের ছেলে, টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।’
অপুর জবানবন্দি অনুযায়ী, আদায় করা ১০ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে অপু একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন এবং কিছু টাকা দিয়ে ধারদেনা শোধ করেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আসামিরা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে তাঁরা চাঁদা আদায় করতেন বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আহমেদ মুন্সী গত ১৫ অক্টোবর ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলাটির একজন আসামি শিশু হওয়ায় তার বিচার হবে শিশু আদালতে। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। বর্তমানে সব আসামি জামিনে রয়েছেন।




