অ্যান্টিগায় দাসপ্রথা নিয়ে ‘গভীর ব্যক্তিগত দুঃখ’ রাজা চার্লসের, ক্ষমা চাওয়া থেকে বিরতই থাকলেন
অ্যান্টিগা ও বারবুডায় কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠকের (সিএইচওজিএম) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বলেছেন, আটলান্টিকপারের দাসবাণিজ্য তাঁকে ‘ভীতি’ ও ‘গভীরতম ব্যক্তিগত দুঃখে’ ভরিয়ে তোলে। মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
রাজা বলেন, দাসবাণিজ্য ‘এই [ক্যারিবীয়] দ্বীপপুঞ্জ ও কমনওয়েলথের অন্যান্য সদস্যের ওপর এখনো ছায়া ফেলে চলেছে’। তিনি এও বলেন, রয়্যাল নেভি এটি বন্ধ করতে ‘অগ্রণী ভূমিকা’ পালন করেছিল।
চার্লস বলেন, ‘আমাদের আগে যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের কর্মকাণ্ড আমরা বদলাতে পারি না। তবে অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি।’
তিনি বলেন, শিক্ষার সুযোগ উন্নত করা, কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ, কমনওয়েলথ দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য উৎসাহিত করা এবং জলবায়ু সহনশীলতার জন্য চাপ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি এই অন্যায়গুলো মোকাবিলার উপায় খুঁজছেন।
তবে অনেক ক্যারিবীয় ও আফ্রিকান দেশ যে ক্ষমা চাওয়ার আশা করেছিল, সেই ক্ষমা না চেয়েই বক্তব্য শেষ করেন রাজা। দাসপ্রথার অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি মোকাবিলায় তিনি কোনো পদক্ষেপের কথাও জানাননি।
বাকিংহাম প্যালেস আগেই জানিয়েছিল, ক্যারিবীয় সফরে রাজা দাসপ্রথার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইবেন না। এই সফরে তিনি বাহামা ও গায়ানায়ও গেছেন।
গায়ানার প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইরফান আলী এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ক্ষমা চাওয়া হওয়া উচিত রাজার পরবর্তী পদক্ষেপ।
এই বিতর্কটি সামনে এসেছিল ২০২৪ সালে সামোয়ায় অনুষ্ঠিত গত কমনওয়েলথ সম্মেলনে, যখন তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরোধিতা সত্ত্বেও নেতারা ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গত সপ্তাহে বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য উন্মুক্ত, তবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ তিনি নাকচ করে দিয়েছেন। দ্য গার্ডিয়ানে লিখে বার্নহ্যাম বলেন, তিনি ‘এত লক্ষ লক্ষ মানুষের যন্ত্রণা ও ভোগান্তির জন্য দুঃখ ও অনুশোচনা প্রকাশ করতে চান’। কমনওয়েলথের দরিদ্রতম দেশগুলোকে সাহায্য করতে ঋণ পুনর্গঠনের একটি কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাবও তিনি দেন।
মঙ্গলবার চার্লসের বক্তব্যের আগে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে একদল বিক্ষোভকারী প্ল্যাকার্ড ধরেছিলেন, যাতে লেখা ছিল ‘অন্যায় স্বীকার করুন। প্রতিকারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হোন।’ অ্যান্টিগার শানা মিশেল বলেন, ‘প্রযুক্তিগতভাবে আমরা মুক্ত, কিন্তু মানসিকভাবে আমাদের অনেকেই মুক্ত নই। আপনাকে ক্ষমা চাইতেই হবে, হ্যাঁ। প্রতিকার শুরু হয় সেখান থেকেই।’
মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে বার্নহ্যাম, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিসহ বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন। কমনওয়েলথের সদস্য দেশ ৫৬টি। অ্যান্টিগা ও বারবুডার প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউন বলেন, ‘কোনো জাতিকে শুধু বর্তমানে টিকে থাকার জন্য নিজের ভবিষ্যৎ বন্ধক রাখতে বাধ্য করা উচিত নয়।’



