শহরের পাখিরা নারীদের থেকে বেশি দূরত্ব রাখে, পুরুষদের প্রায় এক মিটার বেশি কাছে যেতে দেয়: গবেষণা

ইউরোপের পাঁচটি দেশে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের পাখিরা পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি ভয় পায় এবং নারীদের কাছ থেকে তুলনামূলক বেশি দূরত্ব বজায় রাখে।
ইউরোপিয়ান গ্রেট টিট, কবুতর ও ম্যাগপাইসহ মোট ৩৭টি প্রজাতির পাখির ওপর এই পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, ভয় পেয়ে উড়ে যাওয়ার আগে নারীদের তুলনায় পুরুষরা পাখিদের প্রায় এক মিটার বেশি কাছাকাছি যেতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ কোনো নারী এগিয়ে গেলে পাখিটি পুরুষের ক্ষেত্রে যতটা দূরত্বে উড়ে যায়, তার চেয়ে প্রায় এক মিটার আগেই উড়ে যায়।
গবেষণাটির ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা ধারণা দেয় যে মানুষের লিঙ্গ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে পাখিদের হয়তো এক সূক্ষ্ম ক্ষমতা রয়েছে, যদিও তারা ঠিক কীভাবে এটি করে, তা এখনও রহস্য।
গবেষণার সহ-লেখক ড্যানিয়েল ব্লামস্টেইন ও ফেদেরিকো মোরেল্লি জানান, এই ফলাফল মূলত নিজেদের পরিবেশ মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে পাখিদের বুদ্ধিমত্তাকেই তুলে ধরে।
গবেষকদের প্রাথমিক ধারণা, পাখিরা হয়তো মানুষের শরীরের আকার, হাঁটার ধরন কিংবা ফেরোমনের মতো রাসায়নিক সংকেত বা গন্ধের সাহায্যে এই পার্থক্য ধরতে পারে।
মানুষের হাঁটার ধরনের কারণেই পাখিরা এমনটা করছে কি না, তা পরীক্ষা করতে ভবিষ্যতে বিখ্যাত ব্রিটিশ কমেডি শো ‘মন্টি পাইথনস মিনিস্ট্রি অব সিলি ওয়াকস’-এর মতো অদ্ভুতভাবে হেঁটে গবেষণা করার একটি ধারণাও তুলে ধরেছেন ড্যানিয়েল ব্লামস্টেইন, যা হয়তো এই রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করবে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে গবেষণাগারের ইঁদুরের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, নারী গবেষকদের তুলনায় পুরুষ গবেষকরা নাড়াচাড়া করলে ইঁদুরগুলো অনেক বেশি মানসিক চাপে ভোগে।




