জর্জিয়ার সিনেট লড়াইয়ে বড় জয় ওসফের, কলিন্সকে সহজেই হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ। সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এই আসনের ফল ঘোষণা করেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে, সেই লড়াইয়ে জর্জিয়ার এই আসনটি ছিল সবচেয়ে আলোচিতগুলোর একটি।
ওসফ ছিলেন একমাত্র ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট সিনেটর, যিনি এমন একটি অঙ্গরাজ্যে নিজের আসন রক্ষা করছিলেন যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতেছিলেন। ফলে এই আসনের ফলকে ঘিরে দুই দলেরই ছিল বাড়তি নজর।
এক বছর আগেও জর্জিয়ার এই লড়াইকে এবারের নির্বাচন চক্রের সবচেয়ে বড় সিনেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে দেখছিলেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা। তবে শেষ পর্যন্ত ওসফ সহজেই কলিন্সকে পরাজিত করেছেন।
ওসফ তাঁর পুনর্নির্বাচনী প্রচারকে ট্রাম্প প্রশাসনের কথিত অনিয়মের ওপর এক ধরনের গণভোটে পরিণত করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের স্বার্থপর শেয়ার লেনদেন ও ব্যবসায়িক চুক্তির বিষয়টি তিনি বারবার তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের পরিণতি এবং ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে জর্জিয়ার ভোটারদের পকেটে পড়া চাপের কথাও ছিল তাঁর প্রচারের কেন্দ্রে।
অর্থ সংগ্রহেও প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিলেন ওসফ। এই নির্বাচন চক্রে তিনি অন্তত ১১ কোটি ৫৯ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছেন, যা কলিন্সের সংগ্রহের চেয়ে বহুগুণ বেশি। জরিপগুলোতেও ওসফ কখনো কলিন্সের পেছনে ছিলেন না।
রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্স একটি পারিবারিক ট্রাকিং কোম্পানির মালিক। তাঁর প্রচারের কেন্দ্রে ছিল অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং রূপান্তরকামীদের বিরুদ্ধের নীতিমালা। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে ট্রাম্প কলিন্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন; তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জর্জিয়ার জনপ্রিয় রিপাবলিকান গভর্নর ব্রায়ান কেম্পের পছন্দের প্রার্থী, সাবেক ফুটবল কোচ ও প্রথমবার প্রার্থী হওয়া ডেরেক ডুলি।
তবে কলিন্সের প্রচার বারবার ধাক্কা খেয়েছে তাঁর পরিবার ও সাবেক কর্মীদের বিতর্কিত সংযোগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নে। সিএনএনের সাংবাদিকেরা প্রকাশ করেছেন, কলিন্সের জামাতা ডেভিড অ্যালান শিয়ার দ্বিতীয়, যিনি তাঁর ট্রাকিং ব্যবসার সঙ্গে কাজ করেছিলেন, অনলাইনে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ও নাৎসি মতাদর্শের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। কলিন্সের সাবেক চিফ অব স্টাফ কিপ ট্যালি ও অন্যান্য সহযোগীরা শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী নিক ফুয়েন্তেস ও রিচার্ড স্পেনসারের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন; ওই দুজন কলিন্সের কার্যালয়কে হলোকাস্ট অস্বীকারকারী ও ডানপন্থী কর্মী চার্লস সি জনসনের পক্ষে হস্তক্ষেপ করতে বলছিলেন, যিনি আদালত অবমাননার অভিযোগে কারাগারে ছিলেন।
বিতর্কসভা ও প্রচার বিজ্ঞাপনে ওসফ বারবার কলিন্সকে এই সংযোগগুলো নিয়ে আক্রমণ করেছেন। এই ‘ব্যক্তিগত বোঝা’ স্বতন্ত্র ভোটার এবং কিছু রিপাবলিকান-ঝোঁকের ভোটারকেও কলিন্সের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নিজ রাজ্যে নির্বাচকদের সেবা দেওয়ার জোরালো ভূমিকার জন্য কিছু রিপাবলিকান কর্মকর্তার কাছ থেকেও ওসফ সম্মান অর্জন করেছিলেন।
জর্জিয়ার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২১ সালে এক প্রজন্মের মধ্যে প্রথমবার ডেমোক্র্যাটরা জর্জিয়ার দুটি সিনেট আসনই নিজেদের দখলে নিয়েছিল। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট সিনেটর রাফায়েল ওয়ারনক গভীরভাবে ত্রুটিপূর্ণ এক প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধেও রানঅফে কষ্টে আসনটি ধরে রেখেছিলেন। এসব ব্যতিক্রম ছাড়া রিপাবলিকানরা জর্জিয়ার প্রায় প্রতিটি রাজ্যব্যাপী নির্বাচনেই জিততে থাকে।
ওসফের রাজনৈতিক উত্থানও দীর্ঘ পথের। সাবেক কংগ্রেস-সহকারী ও প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ওসফ প্রথম জাতীয় মঞ্চে আসেন ২০১৭ সালে, যখন একটি শহরতলির হাউস আসনের উপনির্বাচনে তিনি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কাছাকাছি লড়াই করেন। ২০২১ সালের রানঅফে জিতে সিনেটে যাওয়ার পর কংগ্রেসের শুনানিতে ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্তদের পদ্ধতিগত জেরা করে তিনি নজর কাড়েন।
এবারের প্রচারে সমাবেশগুলোতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কথিত দুর্নীতি নিয়ে ওসফের তীব্র আক্রমণের ভিডিও ক্লিপ ইন্টারনেটে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনেক ডেমোক্র্যাট তাঁকে দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেও উল্লেখ করতে শুরু করেন। তবে ওসফ নিজে বলেছেন, ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে তিনি নামছেন না।




