ই-পার্লামেন্টে অনলাইনে যুক্ত হবে সংসদের বিল, এমপিদের উপস্থিতি ও ভোটের রেকর্ড

ই-পার্লামেন্টের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের প্রতিটি অধিবেশন, বিল বা আইন পাস, সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি এবং ভোট দেওয়ার রেকর্ডসহ সংসদের কার্যক্রম সরাসরি অনলাইনে সম্পৃক্ত হবে বলে জানিয়েছেন ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
তিনি বলেন, ই-পার্লামেন্ট চালু হলে সাধারণ নাগরিকরা সহজেই জানতে পারবেন তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি সংসদে কী ভূমিকা রাখছেন এবং কোন বিষয়ে কীভাবে ভোট দিচ্ছেন।
হুইপ নিজান বলেন, নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি অনলাইন পোর্টাল বা অ্যাপ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো খসড়া আইন পাসের আগে নাগরিকরা তাদের মতামত ও পরামর্শ দিতে পারবেন। পাশাপাশি ই-পিটিশন দাখিল এবং গ্রাম থেকে বসেও যেকোনো অভিযোগ সরাসরি সংসদের কমিটির কাছে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।
নিজান আরও বলেন, সংসদকে কাগজবিহীন বা পেপারলেস করতে হবে। কারণ সংসদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিদিন কয়েক টন কাগজ ব্যবহার হয়, যা পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির প্রথম সভা শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের ট্যানেলে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় কমিটির সদস্য হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান), সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ, সাঈদ আল নোমান, হুমাম কাদের চৌধুরী, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং আন্না মিন্জ অংশগ্রহণ করেন।
আশরাফ উদ্দিন (নিজান) বলেন, এই পার্লামেন্টকে যুগোপযোগী এবং ই-পার্লামেন্ট করা তাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। বাংলাদেশের নাগরিক যেন তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে, সেটিই লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের নাম ‘ই-পার্লামেন্ট’ পরিবর্তন করে ‘ই-বাংলাদেশ পার্লামেন্ট’ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় সাউন্ড সিস্টেমসহ অন্যান্য কার্যক্রমের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের পুনরাবৃত্তি বা কাজের দ্বৈততা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও আন্না মিন্জকে নিয়ে এ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




