চার বছরে ভাঙল ‘বেবি ডল’ গায়িকা কনিকা কাপুরের দ্বিতীয় সংসার, ইনস্টাগ্রামে জানালেন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত

‘বেবি ডল’খ্যাত জনপ্রিয় গায়িকা কনিকা কাপুরের দ্বিতীয় সংসার ভেঙে গেছে। ভালোবেসে ঘর বাঁধলেও চার বছরের সংসার জীবনের ইতি টেনেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দেওয়া পোস্টে স্বামী গৌতম হাথিরামানির সঙ্গে সংসার জীবনের ইতি টানার ঘোষণা দেন এই শিল্পী।
চার বছরের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন কনিকা কাপুর। তাতে তিনি বলেন, প্রিয় বন্ধু ও পরিবার, অনেক চিন্তাভাবনা ও বিচার-বিবেচনার পর তিনি ও তার স্বামী আলাদা হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
দাম্পত্য জীবনে কাটানো সময়ের জন্য স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য তিনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ এবং তার আগামী দিনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।
সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে কনিকা কাপুর বলেন, তারা জীবনের নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছেন, তাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি সবাইকে সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল থাকার অনুরোধ জানাচ্ছেন তিনি। কী কারণে তারা আলাদা হয়ে গেলেন, তা অবশ্য জানাননি কনিকা।
লন্ডনপ্রবাসী ব্যবসায়ী গৌতম হাথিরামানির সঙ্গে কনিকার পরিচয় প্রায় ১৫ বছরের। তবে পরিচয়ের দীর্ঘ সময় পর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে কনিকা জানিয়েছিলেন, গৌতমকে দুইবার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি, প্রথমবার ২০১৪ সালে, দ্বিতীয়বার ২০২০ সালে। পরে ২০২১ সালের আগস্টে গৌতম তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
২০২২ সালের ২০ মে লন্ডনে বিয়ে করেন তারা। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এর আগে কনিকার প্রথম সংসার ছিল লন্ডনপ্রবাসী ব্যবসায়ী রাজ চন্দকের সঙ্গে। ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে রাজের সঙ্গে ঘর বাঁধেন কনিকা। এ সংসারে জন্ম নেয় তিন সন্তান, দুই মেয়ে আয়ানা ও সামারা এবং ছেলে যুবরাজ। ২০১২ সালে রাজের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয় কনিকার। বিচ্ছেদের পর ভারতে ফিরে সংগীতে মন দেন তিনি।
গৌতমের সঙ্গে বিয়ের সময়ে কনিকার প্রথম সংসারের তিন সন্তানও উপস্থিত ছিল। ছেলে যুবরাজ মায়ের হাত ধরে তাকে বিয়ের মণ্ডপে নিয়ে যায়, অন্যদিকে দুই মেয়ে আয়ানা ও সামারা বিয়ের অনুষ্ঠানে মায়ের পাশে ছিল।
উত্তর প্রদেশে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কনিকা কাপুরের শৈশবেই গানে হাতেখড়ি। ২০১৪ সালে সানি লিওন অভিনীত ‘রাগিনী এমএমএস টু’ সিনেমায় ‘বেবি ডল’ গান গেয়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন তিনি। মিট ব্রাদার্সের সুর করা গানটি তাকে বলিউডের প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করে।
একই বছর শাহরুখ খান ও দীপিকা পাড়ুকোন অভিনীত ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সিনেমায় ‘লাভলি’ গানে কণ্ঠ দেন তিনি। তার অন্যান্য জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘রয়’ সিনেমার ‘চিট্টিয়া কালাইয়া’, ‘এক পহেলি লীলা’ সিনেমার ‘দেশি লুক’, ‘অল ইজ ওয়েল’ সিনেমার ‘নাচন ফারাতে’ এবং ‘উড়তা পাঞ্জাব’ সিনেমার ‘দা দা দাসে’।




