গণতন্ত্র পুনর্গঠনে নৈতিক সমাজ গঠনে জোর ঢাবি শিক্ষার্থীদের, সিনেট ভবনে যুব নেতৃত্ব সম্মেলন

গণতন্ত্র পুনর্গঠনে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নয়, নৈতিক সমাজ গঠনকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক ছায়া সংসদীয় বিতর্কে এ বিষয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তারা।
একই সঙ্গে নৈতিক নেতৃত্ব, আইনের শাসন, জবাবদিহি এবং দেশের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ডাকসু যুব নেতৃত্ব সম্মেলন ২০২৬’ ও ‘জাগ্রত নাগরিক ফাউন্ডেশন সচেতন নাগরিক সম্মেলন’ শীর্ষক আয়োজনে এসব আলোচনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও জাগ্রত নাগরিক ফাউন্ডেশন (জানাফ) যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ‘গণতন্ত্র পুনর্গঠনের স্বার্থে প্রতিষ্ঠান সংস্কারের চেয়ে নৈতিক সমাজ গঠনকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত’ শীর্ষক ছায়া সংসদীয় বিতর্ক। এতে সরকারি দলের হয়ে ফারিয়া আরাফাত, উম্মে সুহালা ও মো. সাজিদুল ইসলাম এবং বিরোধী দলের হয়ে সাব্বির আহমেদ শিশির, নাহিদা সুলতানা ও তানিম বিন কাইয়ুম অংশ নেন। বিতর্কে দুই পক্ষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও নৈতিক সমাজ গঠনের গুরুত্ব নিয়ে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে।
এ ছাড়া তরুণদের নীতি-নির্ধারণী চিন্তাভাবনা ও দক্ষতা তুলে ধরতে ছায়া মন্ত্রিসভার উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের ভূমিকা ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণতান্ত্রিক সুশাসন নিয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার, জানাফের ভাইস চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. নাসিমুল গনি এবং ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নেতৃত্ব ও কূটনীতি নিয়ে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. আবু সাদিক তরুণদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।
বিকেলের অধিবেশনে ‘নৈতিক নেতৃত্ব বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস: তরুণ নেতৃত্ব, আইনের শাসন, কর্মজীবন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন ডাকসুর সদস্য আনাস ইবনে মুনির।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাইফীন আহমেদ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. শাহরিয়ার খান। আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে নৈতিক নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং তরুণদের কর্মজীবন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন বক্তারা।
পরে উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা অতিথিদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জানাফের চেয়ারম্যান এবং হার্ভার্ড ও বোস্টন ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত সাবেক ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিকস অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুল হামিদ। অনুষ্ঠান শেষে বিতার্কিকদের সম্মাননা এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।




