নাটোরের নলডাঙ্গায় সারের জন্য ভোর থেকে লাইন, চাহিদামতো না পেয়ে ক্ষোভ কৃষকদের

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় সারের জন্য কৃষকদের দীর্ঘ অপেক্ষা, ভোগান্তি ও ক্ষোভ বাড়ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো সার না পেয়ে অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।
বুধবার সকালে সার বিতরণে অনিয়ম ও টোকেন ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতির অভিযোগে উপজেলার মাধবনগর বাজারে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করে প্রশাসন।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, বোরো ও রবি মৌসুম সামনে রেখে জমি প্রস্তুত ও চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সারের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু ডিলারদের দোকানে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ায় ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সময় ও শ্রম নষ্ট হচ্ছে বলে তারা জানান।
কৃষকদের অভিযোগ, টোকেন সংগ্রহ করেও অনেকে নির্ধারিত পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। আবার কেউ কেউ লাইনের নিয়ম না মেনে আগে সার নিচ্ছেন। এমনকি চাষাবাদ না করেও কেউ কেউ ভ্যানভর্তি সার নিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। এতে প্রকৃত কৃষকেরা প্রয়োজনীয় সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ অবস্থায় সার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কৃষকের পরিচয় ও জমির পরিমাণ যাচাই করে সার সরবরাহ এবং ডিলারদের দোকানে নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নলডাঙ্গা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সেখানে পুলিশ সদস্যরা অবস্থান নেন।
তবে ‘সারের সংকট নেই’ উল্লেখ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সবুজ আলী বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। সারের কৃত্রিম সংকট যাতে না হয় এবং ডিলাররা যাতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করেন, সে বিষয়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।
নলডাঙ্গা উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাম্মী আক্তার বলেন, ‘উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। প্রকৃত কৃষকেরা যেন পর্যাপ্ত সার পান, সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার বিতরণ কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।’




