তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খুলছে বঙ্গভবনের দুয়ার, নীতিমালা পাঠানো হলো প্রতিষ্ঠানে

রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন দেশের তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দেশের ইতিহাস, সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ থেকে এই তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি নীতিমালাটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ নীতিমালাটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, বঙ্গভবন পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও জাতীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে বাস্তব ও প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করবে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ ও জাতীয় মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।
জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল আজ বুধবার রাতে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন রাষ্ট্রপতির বাসভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাবে, তখন তারা অনুপ্রাণিত হবে। এটি তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে কাজে দেবে।’
তিনি আরও বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই কার্যক্রমে অংশ নিতে আগ্রহী, তাদের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। অধিদপ্তর পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শনের সুযোগ পাবে। তবে এ জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বঙ্গভবন পরিদর্শনে শিক্ষার্থীদের জন্য মোট দেড় ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত দিনে সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনে প্রবেশ করবে। প্রথমে তারা তোশাখানা জাদুঘর পরিদর্শন করবে। সেখানে বঙ্গভবনের ইতিহাস ও কার্যক্রম নিয়ে নির্মিত একটি ভিডিও দেখানো হবে।
এরপর মূল ভবনের সামনে ছবি তোলা, ঐতিহাসিক এয়ার রেইড শেল্টার ও হরিণপার্ক ঘুরে দেখবে তারা। সকাল সাড়ে ১১টায় পরিদর্শন শেষ হবে। তবে নিরাপত্তা বা বিশেষ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ এই সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারবে।
নীতিমালার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বনিম্ন ৩০ জন এবং সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী এই ভ্রমণে অংশ নিতে পারবে। তাদের সঙ্গে থাকতে পারবেন তিন থেকে চারজন শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাক পরে যেতে হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তার কারণে বঙ্গভবনের ভেতরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, স্মার্টঘড়ি বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্র এবং ব্যাগ নিতে পারবেন না। শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাস বা অন্য কোনো যানবাহনও বঙ্গভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। নির্ধারিত স্থানে গাড়ি রেখে শিক্ষার্থীদের হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, পরিদর্শনের স্মৃতি হিসেবে বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত ছবি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সঙ্গে একটি পেনড্রাইভ নিয়ে যেতে হবে। বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো স্থানে প্রবেশ, কোনো বস্তু স্পর্শ বা কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। বঙ্গভবনের কোনো স্থাপনা, নিদর্শন, উদ্ভিদ, প্রাণী বা সরকারি সম্পদের কোনো ধরনের ক্ষতি করা যাবে না।




