গাছের নিচে ফেলে যাওয়া বাবাকে শেষ পর্যন্ত ঘরে নিলেন বড় ছেলে

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে বড় ছেলের ঘরে আশ্রয় পেয়েছেন বৃদ্ধ শামসুল হক মোল্লা। আজ বুধবার দুপুরে বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা নিজ বাড়িতে তাঁর বাবাকে নিয়ে যান। আমৃত্যু বাবার ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শামসুল হক মোল্লার বাড়ি কোটালীপাড়ার উত্তর হিরন গ্রামে। তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ে। বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রিয়াজুল মোল্লা বাসের চালকের সহকারী। চার মেয়ের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট মেয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধী।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ির অদূরে একটি গাছের নিচে রেখে আসেন। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
পরে সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন ওই বৃদ্ধের দুই ছেলে ও চার মেয়েকে তাঁর কার্যালয়ে ডেকে বাবার দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আজ বিকেল পর্যন্ত সময় চান। তবে এর আগেই আজ দুপুরে বড় ছেলে আজিজুল হক নিজ বাড়িতে বাবাকে নিয়ে যান।
আজিজুল হক বলেন, ‘আমি বাবাকে গাছের নিচে রাখিনি, রেখেছে আমার বোনেরা। বাবার সম্পত্তি ও টাকাপয়সা আমার বোনেরা নিয়েছে। টাকাপয়সা খাওয়া শেষ হওয়ার পর তারাই বাবাকে গাছের নিচে রেখে গেছে। গতকাল ইউএনও স্যার আমাদের ডেকেছিলেন। আজ বাবাকে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি। মৃত্যুর আগপর্যন্ত বাবা আমার কাছে থাকবেন।’ বাবার টাকাপয়সা নিয়ে বোনদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বসবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে শামসুল হক নিজের জমি বিক্রি করে হজ পালন করেন। তখন অবশিষ্ট জমিজমা সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। এর পর থেকে সন্তানদের সংসার নিয়ে ব্যস্ততার কারণে তাঁর দেখাশোনা কমে যায় বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ।
গতকাল বৃদ্ধ শামসুল হক জানিয়েছিলেন, তাঁর বয়স এখন ৯৫ বছর। সারা জীবন কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের বড় করলেন। তাঁদের কাছে এখন তিনি বোঝা হয়ে গেছেন। এখন আল্লাহ যা করেন, তা-ই হবে।
ইউএনও সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, ‘বিষয়টি জেনে গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। গতকাল রাতে শামসুল হককে স্থানীয় একটা মক্তবে রাখা হয়েছিল। আজ তাঁর বড় ছেলে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। দুই ছেলের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তারপরও কাউকে বাবার দ্বায়িত্ব নিতে হবে।’




