৩৩ জেলায় ভোজ্যতেলের বাজারে অভিযান, ৯২ প্রতিষ্ঠানকে ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা

ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে দেশজুড়ে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ৩৩টি জেলায় চালানো এই অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গড়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুনতে হয়েছে ৯ হাজার টাকা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অধিদপ্তরের ৫১টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এই অভিযান চালায়।
অধিদপ্তর জানায়, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি দেখাই ছিল অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। দোকানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো হয়েছে কি না এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
অভিযানে ওজন ও পরিমাপে কারচুপি, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও দেখা হয়। হোটেল-রেস্তোরাঁয় সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মানা হচ্ছে কি না, তা-ও তদারক করা হয়।
অভিযানে ব্যবসায়ীদের পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি, অযৌক্তিক মজুত ও সরবরাহে বাধা সৃষ্টি থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। দোকানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতেও সতর্ক করা হয়। সচেতনতা বাড়াতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে সহায়তা করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং শিল্প ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা।
ক্রেতাদের প্রতিও পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা, সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নিতে বলা হয়েছে। ওজন ঠিক আছে কি না যাচাই করা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে রসিদ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানো যাবে।
এমন সময়ে এই অভিযান চালানো হলো, যখন কয়েক মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা চলছে। চলতি বছর দুই দফায় সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। গত এপ্রিলের শেষে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয় ১৯৯ টাকা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে আরও ৫ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ২০৪ টাকা। দাম বাড়ানোর পরও অনেক দোকানে বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছিল না বলে খুচরা বিক্রেতা ও ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার টন। আগের বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানি কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ। বাজারে অনিয়ম ঠেকাতে কয়েক মাস ধরে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে অধিদপ্তর।



