গাজায় ১ হাজার ১৩৪ শিশুর অঙ্গহানি, বিদেশে চিকিৎসায় ইসরায়েলি বাধার অভিযোগ মানবাধিকার সংগঠনের
গাজায় অঙ্গহানি হওয়া শিশুদের বিদেশে বিশেষায়িত চিকিৎসা নিতে ইসরায়েল বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর। সংগঠনটি বলেছে, ভ্রমণে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার আওতায় চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোও পড়েছে, ফলে শত শত শিশু বিশেষায়িত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংগঠনটি বুধবার জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার কারণে গাজায় ১ হাজার ১৩৪ শিশুর অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে। কিন্তু তাদের খুব কমই প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মিলিয়ে ২ হাজার ৩০০ অঙ্গহানি হওয়া ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য মূল্যায়ন করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে মাত্র ৫০০ জন — অর্থাৎ এক-চতুর্থাংশেরও কম — স্থায়ী কৃত্রিম অঙ্গ পেয়েছেন।
ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর বলেছে, ‘গাজায় বর্তমানে মাত্র আটজন প্রত্যয়িত কৃত্রিম অঙ্গ ও অর্থোটিকস বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।’ জেনেভাভিত্তিক সংগঠনটি জানিয়েছে, উপত্যকায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি, লাগানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জামও নেই।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, ‘চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও উপযুক্ত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা অব্যাহত থাকলে এসব শিশুর এখনকার ক্ষতি আজীবন বঞ্চনায় রূপ নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।’
সংগঠনটি আরও বলেছে, চিকিৎসার ধারাবাহিক ফলো-আপে ঘাটতি এবং শিশুরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম অঙ্গ সমন্বয় করতে না পারলে আরও জটিলতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও চলাচলে বাড়তি অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
৩৬ বছর বয়সী ফিদা আহমদ আল-শায়ের মানবাধিকার সংগঠনটিকে বলেছেন, তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে ইসরায়েলি কামানের গোলা কাছে পড়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি হাত হারিয়েছে। ছেলেটির বিদেশে একাধিক অস্ত্রোপচার ও একটি কৃত্রিম অঙ্গ প্রয়োজন, কিন্তু বন্ধ ক্রসিং পেরোতে পারছে না।
সংগঠনটি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনে বলেছে, শিশুদের অঙ্গহানি এবং তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে বাধা দেওয়া সেই ধরনেরই অংশ।
ইউরো-মেড হিউম্যান রাইটস মনিটর বলেছে, গাজায় কৃত্রিম অঙ্গ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞা বাধা দিচ্ছে। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, বিশেষায়িত দলগুলোর কাজ করতে ও স্থানীয় দলগুলোকে প্রশিক্ষণ দিতে উপত্যকায় প্রবেশের অনুমতি প্রয়োজন।




