যুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানের কারখানা চালু করতে হিমশিম, ১৮০০ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত
সুদানের রাজধানী খার্তুমে মিষ্টি তৈরির কারখানার মালিক মানসুর গেইলি আবার উৎপাদন শুরু করেছেন, তবে তাঁর কারখানা এখন আগের সক্ষমতার মাত্র ৪০ শতাংশে চলছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে লড়াই শুরু হলে গেইলির কারখানাসহ দেশজুড়ে হাজারো ব্যবসার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
গেইলি বলেন, তাঁদের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১০ লাখ ডলার। কিছু যন্ত্রপাতি ও খুচরা যন্ত্রাংশ হারিয়ে গেছে এবং কারখানার বড় অংশ নতুন করে গড়তে হয়েছে।
যুদ্ধের আগে খার্তুম ছিল সুদানের প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলোর একটি, যেখানে খাদ্য, বস্ত্রসহ নানা ভোগ্যপণ্যের কারখানা ছিল। যুদ্ধে শহরটি এসএএফ ও আরএসএফের বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সুদানের শিল্প মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৫০টি কারখানা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
খার্তুমে প্লাস্টিক পণ্য ও রিসাইক্লিং কারখানার মালিক আবদুলেলাহ মোহাম্মদ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত করা, ধ্বংস করা ও লুটপাট ছিল পরিকল্পিত; তাঁরা সবকিছু হারিয়েছেন।
আল তেইতাল অ্যাডভান্স ইন্ডাস্ট্রিজের প্রধান নির্বাহী সারা এলফাতিহ খলিলের কারখানায় তিলের তেল তৈরি হতো এবং যুদ্ধের আগে সেখানে ৩০০ শ্রমিক কাজ করতেন। লড়াইয়ের সময় প্রতিষ্ঠানটির গুদাম লুট হয়, ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কারখানাটি এখনো বন্ধ আছে।
খলিল বলেন, এই খাতের ১০ শতাংশেরও কম কারখানা বর্তমানে চালু আছে, আর যেগুলো চালু আছে সেগুলো চলছে থেমে থেমে, এমন খরচে যা তাদের টিকে থাকাকেই ঝুঁকিতে ফেলছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে তিনি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্পষ্ট অর্থনৈতিক নীতি, বিনিয়োগ ও সম্পত্তির অধিকারের আইনি সুরক্ষা এবং নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন ও অবকাঠামোর কথা বলেছেন।
গেইলির কারখানায় উৎপাদন ধরে রাখতে তিল ও চিনিসহ কাঁচামাল, মোড়ক, খুচরা যন্ত্রাংশ, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের নিয়মিত জোগান দরকার; এর যেকোনো একটিতে ব্যাঘাত ঘটলেই উৎপাদন থেমে যায়। তিনি বলেন, মারাত্মক ক্ষতি ও সীমিত পুঁজির পরও অন্য কোনো উপায় না থাকায় তাঁরা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
খার্তুম উত্তরের আরেকটি মিষ্টি কারখানায় চাকরি হারানো শ্রমিক মোহাম্মদ হাজ বলেন, যুদ্ধের শুরুতেই তাঁর চাকরি গেছে এবং কারখানার মালিক সেটি আবার চালু করতে পারছেন না। তাঁর মতে, শিল্প খাত ফের সচল হলে হাজার হাজার বেকার শ্রমিকের কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
বাহরি কেন্দ্রীয় বাজারে মিষ্টি ও ভোগ্যপণ্য বিক্রেতা আবদেলগাদির মোহাম্মদ বলেন, সুদানে তৈরি অনেক পণ্য উধাও হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাল জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতা আহমেদ মাহমুদ বলেন, দাম প্রতিদিন বদলাচ্ছে; স্থানীয় ও আমদানি করা—দুই ধরনের পণ্যেরই দাম বেশি।
গত আগস্টে সুদানের শিল্প মন্ত্রণালয় খার্তুম রাজ্যের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা যাচাই এবং মালিকদের পুনরায় চালু করতে উৎসাহ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় শিল্প এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ জরুরি সেবা ফেরানোর কথাও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এলনায়ের বলেন, শিল্প খাত পুনর্গঠনে যুদ্ধের আগের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো দূর করার বিস্তৃত কৌশল দরকার। তাঁর মতে, কারখানা শুধু খার্তুমে কেন্দ্রীভূত না রেখে সুদানের অন্য রাজ্যগুলোতেও শিল্প গড়ার সুযোগ বিবেচনা করা উচিত।



