সুদান-ইথিওপিয়া টানাপড়েনে পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কার, বন্ধ হলো আসোসার কনস্যুলেট
পারস্পরিক অভিযোগের জেরে সুদানের ছয় কূটনীতিককে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইথিওপিয়া। একই সঙ্গে সীমান্ত শহর আসোসায় সুদানের কনস্যুলেটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এই নির্দেশ আসে।
দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে সুদানের আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। সুদানের অভিযোগ, আরএসএফ ইথিওপিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
রোববার সুদান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আফ্রিকান ইউনিয়নের শান্তি ও নিরাপত্তা পরিষদে ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়। অভিযোগে বলা হয়, ইথিওপিয়া আরএসএফকে তার ভূখণ্ড থেকে প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে।
সুদানের ট্রানজিশনাল সভরিন কাউন্সিলের রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা আমজাদ ফরিদ বলেছেন, সুদান সরকার নিজের ভূখণ্ড রক্ষার অধিকারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ; তবু ইথিওপিয়ার সঙ্গে প্রকাশ্য যুদ্ধ এড়াতে সম্ভাব্য সব চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রকাশ্য সামরিক সংঘাত সুদানের সামরিক কাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ ফেলবে, কারণ দেশটির সেনাবাহিনী এখনো দেশের দক্ষিণ-পূর্বে আরএসএফের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে।
সুদানের সেনাবাহিনী বারবার অভিযোগ করেছে, ইথিওপিয়া আরএসএফকে সহায়তা করছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে আরএসএফের সঙ্গে গৃহযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে সুদানের সেনাবাহিনী। আদ্দিস আবাবা অবশ্য সুদানের গৃহযুদ্ধে আরএসএফকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
অন্যদিকে ইথিওপিয়ার অভিযোগ, সুদানের সেনাবাহিনী টিগরে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। খার্তুম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইথিওপিয়া মিসর ও ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধেও টিগরের বিদ্রোহীদের সমর্থনের অভিযোগ তুলেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বিদ্রোহীরা সেপ্টেম্বরে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। তিনটি দেশই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সুদানি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এসেছে আরেকটি কূটনৈতিক ধাক্কার পরপরই। ১ অক্টোবর ইথিওপিয়া ১০ জন ইরিত্রীয় কূটনীতিককে বহিষ্কার করে এবং ইরিত্রিয়ায় নিজের দূতাবাস বন্ধ করে দেয়। জবাবে ইরিত্রিয়া ইথিওপিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে।
গত মাসে ইথিওপিয়া একজন মিসরীয় কূটনীতিককেও বহিষ্কার করেছিল। মিসরের সঙ্গে ইথিওপিয়ার বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁস বাঁধ, যা দীর্ঘদিন ধরেই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্কের বড় কৌশলগত উদ্বেগ হয়ে আছে।



