বার্লিনের হোটেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল বাভারিয়ার উপপ্রধান হুবার্ট আইওয়াঙ্গারকে

জার্মানির বাভারিয়া রাজ্যের উপপ্রধান ও রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হুবার্ট আইওয়াঙ্গারকে বার্লিনের একটি হোটেলের কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বার্লিন-মিটে এলাকার ওই হোটেলের নিজের কক্ষেই তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ ও প্রসিকিউটররা মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছেন। পুলিশ ও প্রসিকিউটরদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই তদন্তের লক্ষ্য হলো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর পেছনের পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা এবং তৃতীয় কোনো পক্ষের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নাকচ করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা। এর বাইরে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য তারা দেননি।
আইওয়াঙ্গার তাঁর দলের একটি কার্যালয়ের উদ্বোধনে যোগ দিতে বার্লিনে গিয়েছিলেন বলে জার্মান দৈনিক বিল্ড জানিয়েছে। বিল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসুস্থ বোধ করায় তিনি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। পরে পুলিশ হোটেলে গিয়ে তাঁর মরদেহ আবিষ্কার করে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।
বাভারিয়ার রাজ্য প্রধানমন্ত্রী মার্কাস জোডার আইওয়াঙ্গারের মৃত্যুকে একটি ‘পরম ট্র্যাজেডি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত। আমাদের ভাবনা এখন সর্বাগ্রে তাঁর পরিবার ও তাঁর সন্তানদের সঙ্গে রয়েছে।’
আইওয়াঙ্গার ছিলেন পপুলিস্ট ফ্রি ভোটার্স দলের প্রধান। তাঁর দল জোডারের ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের (সিএসইউ) নেতৃত্বাধীন বাভারিয়ার আঞ্চলিক সরকারের জুনিয়র অংশীদার ছিল।
তিনি ২০০৬ সাল থেকে ফ্রি ভোটার্সের বাভারিয়া শাখার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাঁর নেতৃত্বেই দলটি ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো রাজ্য সরকারে জায়গা পায়। তবে জার্মানির ফেডারেল পার্লামেন্টে আসন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত আসন দলটি কখনো জিততে পারেনি।
২০২৩ সালে আইওয়াঙ্গার জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিলেন। তখন প্রতিবেদন প্রকাশ পায় যে ১৭ বছর বয়সে স্কুলছাত্র থাকাকালে তিনি একটি ইহুদিবিদ্বেষী পুস্তিকা লিখেছিলেন, যেখানে আউশভিৎজকে একটি ‘বিনোদন এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
আইওয়াঙ্গার ওই পুস্তিকা লেখার কথা অস্বীকার করেছিলেন, যদিও তিনি স্বীকার করেছিলেন যে তাঁর স্কুলব্যাগে সেটির ‘একটি বা কয়েকটি কপি’ ছিল। ওই ঘটনায় তিনি ক্ষমা চেয়েছিলেন, তবে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছিলেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইওয়াঙ্গারের দুটি সন্তান রয়েছে এবং তিনি তাঁর সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস করতেন।



