হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতা জশুয়া ওংয়ের আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড

হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী কর্মী জশুয়া ওংকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। সেপ্টেম্বরে তিনি এই অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে এটি তাঁর দ্বিতীয় দণ্ড।
৩০ বছর বয়সী ওং ২০২০ সাল থেকে কারাগারে আছেন। হংকংয়ে তিনিই একমাত্র কর্মী, যাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দুবার মামলা হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই আইন শহরটিতে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে ব্যবহৃত হচ্ছে।
ওংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নির্বাসিত হংকং কর্মী নাথান ল-এর সঙ্গে মিলে বিদেশি শক্তিগুলোকে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ বা অন্যান্য বৈরী পদক্ষেপ নিতে উসকানি দিয়েছিলেন।
রায়ে হাইকোর্টের বিচারক উইলিয়াম ট্যাম ওংয়ের কর্মকাণ্ডকে ‘গুরুতর প্রকৃতির’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালু হওয়ার আগে বিদেশি হস্তক্ষেপ চাইতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলেন ওং, এবং আইনটি কার্যকর হওয়ার পরও নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়ে ল-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট শেয়ার করা অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি।
বিচারক বলেন, ওংয়ের ভূমিকা ছিল তাঁর ‘গোপন সমর্থন জোগানো’ এবং নির্বাসিত কর্মীদের আন্দোলনে ‘বিদেশি দেশগুলোর মনোযোগ আকৃষ্ট করা’। তাঁর এই নতুন সাজা আগের অপরাধের অবশিষ্ট মেয়াদের সঙ্গে একই সময়ে কার্যকর হবে।
আদালতে গাঢ় নীল শার্ট ও মোটা ফ্রেমের চশমা পরে হাজির ছিলেন ওং। রায়ের সময় তিনি মাথা নেড়ে সম্মতি জানান এবং নত হয়ে অভিবাদন জানান, এ সময় সমর্থকেরা হাত নাড়েন।
সাবেক এই ছাত্রনেতা ইতিমধ্যে চার বছর আট মাসের কারাদণ্ড ভোগ করছেন, যা ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক নির্বাচনে ভূমিকার জন্য রাষ্ট্রদ্রোহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি আটক আছেন এবং আগের সাজা অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।
২০১৪ সালের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের কিশোর মুখ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পেয়েছিলেন ওং। শহরটির আর্থিক কেন্দ্র অচল করে দেওয়া ওই ‘আমব্রেলা’ বিক্ষোভ এক প্রজন্মের তরুণদের উদ্বুদ্ধ করেছিল। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ‘বিক্ষোভের মুখ’ শিরোনামে টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছাপা হয়েছিল তাঁর ছবি।
২০১৯ সালে প্রস্তাবিত প্রত্যর্পণ বিল নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলে ওং ২০১৪ সালের আন্দোলনের ভূমিকার জন্য কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। বিক্ষোভের চরম পর্যায়ে মুক্তি পেয়ে তিনি সরাসরি রাস্তায় নেমে আসেন।
পরের বছর বেইজিং ব্যাপক জাতীয় নিরাপত্তা আইন চালু করে। বেইজিংয়ের দাবি, সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই আইন দরকার ছিল; সমালোচকদের মতে, আইনটি রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্য করতে, সুশীল সমাজের সংগঠন ভেঙে দিতে এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধে ব্যবহৃত হয়েছে।




