‘দ্য পিট’ ও ‘ইআর’-এর মিল যথেষ্ট, মাইকেল ক্রাইটনের বিধবার মামলা বিচারে যাবে: মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালত রায় দিয়েছে, চিকিৎসা-নাটক ‘দ্য পিট’ ও ‘ইআর’-এর মধ্যে মিল এতটাই স্পষ্ট যে ‘ইআর’-এর স্রষ্টা মাইকেল ক্রাইটনের বিধবা শেরি ক্রাইটনের মামলা জুরি বিচারে যেতে পারে। বুধবার তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মত মতামতে ওয়ার্নার ব্রস টেলিভিশনের (ডব্লিউবিটিভি) আপিল খারিজ করে দিয়েছে; স্টুডিওটি দুই বছর ধরে বলে আসছিল, দুটি ধারাবাহিকের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
আদালত মতামতে লিখেছে, ‘দ্য পিট’ ও ‘ইআর’-এর মধ্যে ‘স্পষ্ট ও অসংখ্য মিল’ রয়েছে। দুটি ধারাবাহিকই একটি জরুরি বিভাগের পটভূমিতে তৈরি, দুটিতেই রয়েছে ‘প্রায়ই দুর্বোধ্য’ চিকিৎসা পরিভাষা, একই সময়ে ঘটতে থাকা একাধিক সংকট এবং আঘাতের গ্রাফিক চিত্রায়ণ। মতামতে আরও বলা হয়েছে, দুই ধারাবাহিকেই চিকিৎসক ও নার্সরা ক্লান্ত, আবেগের বিস্ফোরণ ঘটে, এবং প্রতিটিতেই মেডিকেল স্কুল থেকে সদ্য আসা একজন তরুণ ও অনভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন।
মামলার আসামির তালিকায় ছিল ডব্লিউবিটিভি, ‘দ্য পিট’-এর নির্বাহী প্রযোজক ও সাবেক ‘ইআর’ শোরানার জন ওয়েলস ও তার প্রতিষ্ঠান জন ওয়েলস প্রোডাকশনস, দুই ধারাবাহিকেই অভিনয় করা অভিনেতা নোয়া ওয়াইল এবং ‘ইআর’-এর কয়েকটি পর্বের নির্বাহী প্রযোজক ও লেখক এবং এখন ‘দ্য পিট’-এর শোরানার আর স্কট গেমিল। আসামিপক্ষের যুক্তি ছিল, এসব মিল জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে যেকোনো নাটকেই থাকা সাধারণ উপাদান, এবং জরুরি বিভাগের পটভূমির সব ধারাবাহিককে ‘ইআর’ থেকে উদ্ভূত বলা যায় না।
আপিল আদালত সেই যুক্তি মানেনি। আদালত বলেছে, ‘এখানকার বিবরণ প্রাথমিকভাবে একটি মামলা দাঁড় করানোর জন্য যথেষ্ট।’ ফলে পক্ষগুলো সমঝোতায় না পৌঁছালে মামলাটি লস অ্যাঞ্জেলেসে জুরি বিচারে যাবে।
লেখক ও চিত্রনাট্যকার মাইকেল ক্রাইটন ছিলেন ‘ইআর’-এর স্রষ্টা; ধারাবাহিকটি তৈরি হয়েছিল মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে তার নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা একটি চলচ্চিত্র চিত্রনাট্য থেকে। ডব্লিউবিটিভির সঙ্গে ১৯৯৪ সালের তার চুক্তিতে একটি ‘ফ্রোজেন রাইটস’ শর্ত ছিল, যার ফলে তার অনুমোদন ছাড়া তার কাজের কোনো স্পিন-অফ বা রিবুট তৈরি করা যেত না। ক্রাইটন মারা যান ২০০৮ সালে।
তার বিধবা শেরি ক্রাইটন মামলাটি করেন ২০২৪ সালের আগস্টে, ‘দ্য পিট’-এর প্রথম পর্ব প্রচারের পাঁচ মাস আগে। তার অভিযোগ, ‘দ্য পিট’ আসলে ‘ইআর’-এর অননুমোদিত রিবুট, এবং তিনি ওয়েলসের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তোলেন।
তবে আপিল আদালত ওয়াইল, ওয়েলস ও গেমিলকে আসামি তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। আদালতের মতে, ‘দ্য পিট’ তৈরি করে তারা ক্রাইটনের চুক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন করতে পারেন—এমন কোনো সচেতনতার প্রমাণ তাদের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি। ডব্লিউবিটিভিকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ওয়াইল, ওয়েলস ও গেমিল স্বীকার করেছেন, ‘ইআর’ রিবুটের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পরই ‘দ্য পিট’ তৈরি হয়। অ্যামি পোলারের ‘গুড হ্যাং’ পডকাস্টে ওয়াইল বলেন, তারা ‘ইআর’ রিবুটের পথে এগোতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু তা হয়নি; সেই পরিকল্পনার জন্য একত্র হওয়ায় এইচবিও ম্যাক্সের সঙ্গে ‘দ্য পিট’-এর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। রিবুট না করতে হওয়াকে ‘মুক্তিদায়ক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে ডব্লিউবিটিভি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যান্টি-স্ল্যাপ আইনের আওতায় মামলাটি খারিজের আবেদন করেছিল; ওই আইনের উদ্দেশ্য বাকস্বাধীনতা খর্বকারী ভিত্তিহীন মামলা ঠেকানো। কিন্তু বিচারক ওয়েন্ডি চ্যাং ২০২৫ সালে সেই আবেদন নাকচ করে দেন, কারণ তার মতে শেরি ক্রাইটনের কাছে এগিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
রায়ের পর শেরি ক্রাইটন বুধবার ‘ভ্যারাইটি’কে বলেন, আপিল আদালতের সিদ্ধান্তে তিনি ‘গভীরভাবে সন্তুষ্ট’ এবং তথ্য উদ্ঘাটন পর্ব ও জুরির সামনে মামলাটি উপস্থাপনের অপেক্ষায় আছেন; তার মতে, এই মামলা লেখক, স্রষ্টা এবং তাদের পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত।
‘দ্য পিট’ দুই মৌসুমে জিতেছে ১২টি এমি, দুটি গোল্ডেন গ্লোব ও একটি পিবডি পুরস্কার। পিটসবার্গের একটি জরুরি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডা. মাইকেল ‘রবি’ রবিনাভিচ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ওয়াইল একাধিক সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ‘ইআর’-এর ১১ মৌসুমে তিনি অভিনয় করেছিলেন শিকাগোর সম্পদসংকটে থাকা একটি জরুরি বিভাগের ধনী তরুণ চিকিৎসক ডা. জন কার্টার চরিত্রে।




