জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাজেট কর্তনের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ধর্মঘট, লাখো মানুষের মিছিলের প্রস্তুতি

ফ্রান্সজুড়ে দেশব্যাপী ধর্মঘটের দিনে লাখ লাখ মানুষের মিছিলে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর ডাকা এই ধর্মঘট হাসপাতালের কর্মী, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ডাক বিভাগ, শিক্ষক ও রেলকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর কার্যকালের শেষ মাসগুলো অভ্যন্তরীণ সংকটে জর্জরিত। নিম্নমানের শিক্ষা পরিস্থিতির প্রতিবাদে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সঙ্গে যোগ হয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে শ্রমিকদের সাপ্তাহিক প্রতিবাদ। একই সময়ে বিভক্ত পার্লামেন্টে কৃচ্ছ্রসাধনের বাজেট পাস করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার, যেখানে সরকারি ঋণ অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় ১২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবারের ধর্মঘটের আগে ফ্রান্সের চারটি প্রধান রেল ইউনিয়ন বলেছে, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট কর্তনে দারিদ্র্য আরও বাড়বে, সামাজিক নিরাপত্তা খর্ব হবে, সরকারি কর্মীদের বেতন আটকে থাকবে এবং পরিবেশগত পদক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ শুকিয়ে যাবে।
জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি ব্যয় কর্তন ও বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থা ঘিরে নতুন প্রতিবাদের মধ্যে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাখোঁর উত্তরসূরি বাছাইয়ের দৌড়ে উগ্র ডানপন্থী, অভিবাসনবিরোধী প্রার্থী মারিন লো পেন জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন।
উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপচে পড়া শ্রেণিকক্ষ ও জরাজীর্ণ ভবনের প্রতিবাদে বিদ্যালয় অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। তাদের ভাষ্য, কিছু শ্রেণির আকার সীমিত করা ও বিদ্যালয় মেরামতে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে তহবিল ধার দেওয়ার মতো সরকারি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও কিছু অনুষদ অবরোধে যোগ দিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিসরজুড়ে ট্রেড ইউনিয়নগুলো জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাকে যোগ দিয়েছে এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনিয়নগুলোও সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছে।
অধিকার গোষ্ঠীগুলো কড়া পুলিশি ব্যবস্থা ও বিক্ষোভের অধিকার দমনে মাখোঁর প্রশাসনের 'কর্তৃত্ববাদী' চেষ্টার প্রতিবাদ করেছে। ফরাসি মানবাধিকার লীগ বলেছে, যেকোনো ভিন্নমতের কণ্ঠ রোধে 'কর্তৃত্ববাদী ঝোঁক' দেখা যাচ্ছে। সরকার ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করেছে, কর্তৃপক্ষ নগরকেন্দ্রগুলোতে বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় কারফিউ দেওয়া হয়েছে।
বামপন্থী সিজিটি ইউনিয়নের প্রধান সোফি বিনে বলেছেন, 'আমরা অত্যন্ত গুরুতর এক সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক কর্তৃত্ববাদী ঝোঁক দেখা যাচ্ছে।' রেন, তুলুজ ও লিওঁর মতো শহরে বিক্ষোভগুলোকে নগরকেন্দ্রের বাইরে ঠেলে দেওয়ার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি।
মধ্যপন্থী সিএফডিটি ট্রেড ইউনিয়নের প্রধান মারিলিজ লেয়োঁ বলেছেন, 'বিক্ষোভের মূলনীতি হলো তার দৃশ্যমানতা।'
জাতীয় রেল পরিচালক এসএনসিএফ জানিয়েছে, আঞ্চলিক লাইন ও বৃহত্তর প্যারিস এলাকার কিছু অংশে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটবে। ডকশ্রমিকরা বলেছেন, ফরাসি বন্দরগুলোতে বিঘ্ন দেখা দেবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নার্সারি ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রায় ১৮ শতাংশ ধর্মঘটে অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছে। ট্রেড ইউনিয়নগুলো বলেছে, বৃহস্পতিবারের ধর্মঘটে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের অংশগ্রহণও তারা প্রত্যাশা করছে।




