ইংল্যান্ডের ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহ্যের তালিকায় হেস্টিংস দুর্গ ও ডিকেন্সের লেখার কুটির, যোগ হলো প্রায় ২০০ স্থান

উইলিয়াম দ্য কনকারারের নির্মিত হেস্টিংস দুর্গ, চার্লস ডিকেন্সের লেখার জন্য ব্যবহৃত সুইস-ধাঁচের কাঠের কুটির এবং আগুনে পোড়া বিস্তীর্ণ মুরল্যান্ডসহ প্রায় ২০০টি ঐতিহাসিক স্থান ইংল্যান্ডের ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহ্যের তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে। হিস্টরিক ইংল্যান্ডের ‘হেরিটেজ অ্যাট রিস্ক’ রেজিস্টারে এই স্থানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নতুন যোগ হওয়া ১৯৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে পূর্ব সাসেক্সের হেস্টিংস দুর্গ, কেন্টে ডিকেন্সের কাঠের লেখার কুটির এবং উত্তর ইয়র্কশায়ারের ফাইলিংডেলস মুর, যা গত গ্রীষ্মে দাবানলে বিধ্বস্ত হয়েছিল।
হিস্টরিক ইংল্যান্ড বলছে, এসব স্থানের ওপর চাপের একটি অংশের পেছনে রয়েছে জলবায়ু সংকট; গরম গ্রীষ্ম ও ঝড়ো শীত ইংল্যান্ডের সবচেয়ে মূল্যবান স্থানগুলোকে আরও বড় বিপদের মুখে ফেলছে।
হিস্টরিক ইংল্যান্ডের যুগ্ম প্রধান নির্বাহী এমা স্কোয়ায়ার বলেন, নতুন যোগ হওয়া ১৯৭টি স্থান বৈচিত্র্যময়, এবং তিনি স্বীকার করেন, এত উচ্চপ্রোফাইল স্থানও যে বিপদে পড়তে পারে, তা দেখে অনেকে অবাক হবেন। তিনি বলেন, ‘এটি দেখায়, খুব বিশেষ বলে মনে করা স্থানগুলোও কখনো কখনো ক্ষয় বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।’
হেস্টিংস দুর্গ ছিল ১০৬৬ সালে নরম্যান আক্রমণের পর ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে উইলিয়াম দ্য কনকারারের নির্দেশে নির্মিত দুর্গগুলোর একটি। হিস্টরিক ইংল্যান্ড বলেছে, উন্মুক্ত অবস্থান ও উপকূলীয় ভাঙন দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসাবশেষটিকে প্রভাবিত করেছে, তবে সম্প্রতি চরম আবহাওয়ার ঘটনায় এর কিছু অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্কোয়ায়ার বলেন, ‘আরও চরম আবহাওয়ার ঘটনা ও উপকূলীয় ভাঙন অবশ্যই একটি বিষয়। পানি ঢোকা ও ভূমিধস আগের চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে, আবহাওয়ার ধরন বদলে যাওয়ার কারণে।’
রচেস্টারে ডিকেন্সের লেখার কুটিরটি তালিকায় যোগ হয়েছে, কারণ এটি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে এবং মেরামত প্রয়োজন বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কাঠের দোতলা এই ভবনটি মূলত কেন্টের হাইহামে ডিকেন্সের বাড়ি গ্যাডস হিল প্লেসের বাগানে ছিল; নিরিবিলিতে কাজ করার জন্য তিনি সেখানে যেতেন।
ধারণা করা হয়, প্রকাশ্য পরিবেশনের মহড়া ও নতুন চরিত্র গড়ে তুলতে সাহায্যের জন্য তিনি সেখানে আয়না রেখেছিলেন। কুটিরটি ১৯৬০-এর দশকে রচেস্টারে বর্তমান স্থানে সরিয়ে আনা হয়।
উত্তর ইয়র্কশায়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের হিসাবে, ২০২৫ সালে ফাইলিংডেলস মুরের দাবানলে প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার মুরল্যান্ড ও বন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হিস্টরিক ইংল্যান্ড বলেছে, এতে ওই এলাকায় বসবাস ও কাজ করা হাজারো মানুষের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বড় প্রভাব পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে নর্থ ইয়র্ক মুরস ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ড্রোন ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে।
তালিকায় আরও যোগ হয়েছে ওয়ারউইকশায়ারের স্ট্র্যাটফোর্ড-আপন-অ্যাভনে হলস ক্রফট, উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের মেয়ের ঐতিহাসিক বাড়ি। ১৭শ শতকের কাঠের কাঠামোর এই ভবনের বাইরের অংশ বাঁচাতে অর্থ প্রয়োজন, যার মধ্যে একটি যানবাহনের ধাক্কায় হওয়া ক্ষতি মেরামতও রয়েছে।
মার্সিসাইডের উইরালে ১৮শ শতকের বিডস্টন বায়ুকলও তালিকায় এসেছে; সেখান থেকে লিভারপুল ও ওয়েলসের পাহাড়ের দৃশ্য দেখা যায়। একটি বন্ধুগোষ্ঠী এটিকে খোলা রাখলেও জরুরি মেরামত প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে হিস্টরিক ইংল্যান্ড জানিয়েছে, ৮৫টি স্থান ‘রক্ষা পেয়েছে’ এবং তালিকা থেকে বাদ গেছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্নওয়ালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাছ ধরার বন্দর নিউলিন হারবার; স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা এর গ্রানাইট কাঠামো ও ১৯শ শতকের লোহার রেলিং পুনরুদ্ধার করেছেন।
উত্তর লন্ডনের হ্যারিঙ্গেতে ৮১০ টটেনহ্যাম হাই রোডের জর্জিয়ান সারিবাড়িটি টটেনহ্যাম হটস্পার ফুটবল ক্লাব জাতীয় লটারি হেরিটেজ ফান্ডের সহায়তায় ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছে; এটি এখন শিল্পীদের স্টুডিও, গ্যালারি ও ক্যাফেসহ একটি সৃজনশীল কেন্দ্র। গ্লুচেস্টারশায়ারের বার্কলিতে এডওয়ার্ড জেনারের কুটিরও রক্ষা পেয়েছে; গ্রাম্য এই গ্রীষ্মকালীন বাড়িটিকে বিশ্বের প্রথম টিকাদান ক্লিনিকের স্থান হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
হিস্টরিক ইংল্যান্ড জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝুঁকিপূর্ণ ঐতিহ্যের তালিকায় থাকা ১৩৫টি স্থানের সহায়তা ও মেরামতে তারা ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি অনুদান দিয়েছে।
তালিকায় এখনো প্রায় ৫,০০০টি স্থান রয়েছে, যার মধ্যে ১,৫০০টি ধর্মনিরপেক্ষ ভবন, ১,০০০টি উপাসনালয়, তিনটি যুদ্ধক্ষেত্র ও চারটি জাহাজডুবির ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
ঐতিহ্যমন্ত্রী ফিওনা টুইক্রস বলেন, ‘এ বছরের রেজিস্টার আমাদের ঐতিহাসিক পরিবেশের ওপর চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেয়—পুরোনো ভবন ও কাঠামোগত ক্ষয় থেকে শুরু করে চরম আবহাওয়ার প্রভাব পর্যন্ত।’




