প্যারিস সফর নিয়ে ফারাজকে অপেক্ষায় রাখছেন লে পেন, অক্টোবরের সফর এখনো নির্ধারিত হয়নি

যুক্তরাজ্যের রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ প্যারিসে গিয়ে মারিন লে পেনের সঙ্গে দেখা করার কথা ব্যাপকভাবে প্রচার করেছেন। কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী লে পেন তাঁর এই ডানপন্থী মিত্রকে অপেক্ষায়ই রাখছেন।
বছর শেষ হওয়ার আগে ইউরোপের ডানপন্থী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ফারাজের ফ্রান্স সফরটি অক্টোবরে হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে লে পেনের ন্যাশনাল র্যালি দলের চারজন কর্মকর্তা, যাঁরা তাঁর কর্মসূচি সম্পর্কে জানেন, সংবেদনশীল দলীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার শর্তে নাম প্রকাশ না করে পলিটিকোকে বলেছেন, দলীয় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো সফর এখনো নির্ধারিত হয়নি।
দলটির কয়েকজন নেতা বলেছেন, রিফর্মের সঙ্গে সম্পর্ক কিংবা সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষরিত অভিবাসন চুক্তির দিকে গণমাধ্যমের মনোযোগ ফেরানোর কোনো তাড়া নেই। উপরে উল্লিখিত এক ব্যক্তি বলেন, ফারাজের সফরের ‘লাভ-ক্ষতি’ হিসাব করা দরকার।
লে পেন এখনো ফ্রান্সের ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্বে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তবে ফারাজের কর্মকর্তারা প্রথম এই সফরের প্রস্তাব দেওয়ার পর থেকে রিফর্ম ও ন্যাশনাল র্যালি—দুই দলেই অনেক কিছু বদলে গেছে।
সেপ্টেম্বরের শুরুতে বার্মিংহামে ব্রিটিশ ডানপন্থী দলটির সম্মেলনে তারকা অতিথি ছিলেন লে পেনের দ্বিতীয় প্রধান নেতা জর্দান বারদেলা। বারদেলা ও ফারাজ সেখানে একটি চুক্তি ঘোষণা করেন, যার আওতায় ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল অননুমোদিতভাবে পাড়ি দেওয়া সব অভিবাসীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হবে।
কিন্তু এই পরিকল্পনা ফ্রান্সে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার রাজনীতিকেরা প্রশ্ন তোলেন, ফ্রান্স কেন আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে নেবে।
বার্মিংহামে রিফর্মের জন্যও সমস্যা দেখা দেয়। সম্মেলনের ঠিক আগের রাতে সম্প্রচারিত একটি গোপন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দলটির অর্থায়ন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তোলে এবং ফারাজের দুই শীর্ষ সহকারীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে লেবার পার্টির জনমত জরিপের সংখ্যা উন্নত হয়েছে, আর রক্ষণশীল দলের সমর্থন বেড়ে যাওয়ায় দ্বিতীয় অবস্থান নিয়েও রিফর্ম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
একই সম্মেলনে রিফর্ম প্রথম পলিটিকোকে জানিয়েছিল, অক্টোবরের শেষ নাগাদ ফারাজ লে পেনের সঙ্গে দেখা করতে ফ্রান্সে যাবেন। বারদেলার ইংরেজি ভাষণের পর ফারাজ প্যারিস সফরের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, ‘একমাত্র অসুবিধা হলো, মনে হচ্ছে তারা আমাকে প্যারিসে আমন্ত্রণ জানাবে আর আমাকে ফরাসিতে কথা বলতে হবে, কিন্তু কিছু মনে করবেন না, আমরা পৌঁছে যাব।’
আমন্ত্রণের নিশ্চয়তা কখনোই আসেনি। অক্টোবর শেষ হয়ে এলে এবং এটা স্পষ্ট হয়ে গেলে যে ফারাজ অর্লেয়াঁয় ন্যাশনাল র্যালির সম্মেলনে পাল্টা উপস্থিতির সুযোগ পাচ্ছেন না, রিফর্মের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা এই বছরের ডায়েরিতে আছে।’
তবে প্যারিসে সেই সময়সীমা স্বীকৃত নয়। লে পেনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা চারজন ন্যাশনাল র্যালি কর্মকর্তা বলেছেন, বড়দিনের আগে ফারাজের কোনো সফর নির্ধারিত হওয়ার কথা তাঁরা জানেন না।
লে পেনের একজন সহকারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফারাজকে বরং বারদেলার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দলে বারদেলার অবস্থান একের পর এক ধাক্কা খেয়েছে। লে পেনের আরেকজন উপদেষ্টা দলীয় প্রেসিডেন্টের ফারাজের সঙ্গে নিজেকে জড়ানোর লাভ-ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘লাভ-ক্ষতিটা ভেবে দেখতে আমাদের আরেকটু সময় ব্যয় করতে হবে।’
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ন্যাশনাল র্যালির প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তা থিবো ফ্রাঁসোয়া বলেন, রিফর্মের সঙ্গে ‘নিয়মিত যোগাযোগ’ রয়েছে। বারদেলার সঙ্গে চুক্তির আগে ফারাজ ছোট নৌকাগুলোকে ফরাসি উপকূলে ফেরত পাঠাতে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইংলিশ চ্যানেলে সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান’ চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তখন লে পেনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি পলিটিকোকে বলেছিলেন, ‘তারা ফরাসি না হলে কেন তাদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হবে?’ রিফর্ম ও ন্যাশনাল র্যালির মুখপাত্রেরা মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।




