কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্য’ বলা নিয়ে মের্জ ও ফন ডার লেয়েনের বিরোধ আরও গভীর

কানাডার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে কী নামে ডাকা হবে, তা নিয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের মধ্যে বিভেদ আরও গভীর হয়েছে বলে চারজন কূটনীতিক পলিটিকোকে জানিয়েছেন।
বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাব—কানাডাকে ইইউর ‘সহযোগী সদস্য’ করা। মন্ট্রিয়লে এক শীর্ষ সম্মেলনে তিনি এই শব্দটি উচ্চারণ করার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়, কারণ তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই জার্মানির নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে ইইউর ২৭টি রাজধানীর অনুমোদিত যৌথ বিবৃতি থেকে ওই শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছিল।
মের্জ এর আগে ইউক্রেনের জন্য ‘সহযোগী সদস্য’ মর্যাদার ধারণা তুলেছিলেন, যখন দেশটি ব্লকে পুরোপুরি যোগ দেওয়ার পথে এগোচ্ছে। সেই ধারণা তখন কিয়েভসহ ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। বার্লিনের কর্মকর্তারা এখন ফন ডার লেয়েনের কানাডার ক্ষেত্রে একই শব্দ ব্যবহারের চেষ্টাকে জার্মান চ্যান্সেলরের উদ্যোগের প্রতি এক ধরনের জবাব হিসেবে দেখছেন।
কূটনীতিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই শব্দগত সংঘাত ব্লকটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে মের্জ ও ফন ডার লেয়েনের মধ্যে বাড়তে থাকা বৃহত্তর বিভেদেরই প্রতিচ্ছবি।
বার্লিন জানিয়েছে, কমিশনের প্রস্তাবিত প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ইউরোর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি বাজেট থেকে ‘শত শত বিলিয়ন’ না কমালে তারা তা অনুমোদন করবে না।
আবার ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবিত ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদও জার্মানিতে সাড়া পায়নি। ইউক্রেন-সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়ে বার্লিন বরং ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আলাদা একটি কাঠামোকে গ্রহণ করেছে।
ইউরেশিয়া গ্রুপের জার্মানি প্রধান ও জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভাষণলেখক ইয়ান টেখাউ বলেন, ‘ব্রাসেলস ও বার্লিনের মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। ফন ডার লেয়েন জোরালো একীকরণবাদী পন্থা নিয়েছেন, আর মের্জ তা থেকে পুরোপুরি সরে এসে জাতিরাষ্ট্রগুলোকেই ইইউ নীতির প্রধান চালক হিসেবে বলছেন।’
মের্জের একজন প্রতিনিধি এ বিষয়ে পলিটিকোর মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি। কোনো পক্ষই ‘সহযোগী সদস্য’ প্রশ্নে পিছু হটছে না।
দুজন কূটনীতিক জানান, বুধবার ইইউ রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকে বার্লিন আবারও তার বিরোধিতার কথা জানিয়েছে। তবে কমিশন প্রেসিডেন্টের ভাবনার সঙ্গে পরিচিত এক ব্যক্তি বলেছেন, ফন ডার লেয়েন এই নামটি ছাড়ার কোনো ইচ্ছা রাখেন না।
কমিশনের প্রধান মুখপাত্র পাওলা পিনহো বলেন, ‘গত সপ্তাহের শীর্ষ সম্মেলনে যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তার ওপর গড়ে তোলার দিকেই আমরা সত্যিই মনোযোগ দিচ্ছি।’ তিনি যোগ করেন, ইইউ-কানাডা সম্পর্ক নিয়ে বার্লিন ও ব্রাসেলসের মূল লক্ষ্য একই।
একজন জার্মান কূটনীতিক বলেন, ‘মূল বিষয়ে কোনো পার্থক্য নেই। আমরা দুজনেই এমন এক অনন্য অংশীদারত্ব গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের নেই।’
তবে দুজন ইইউ কূটনীতিকের মতে, পার্থক্যটা রয়েছে খুঁটিনাটিতে। কানাডার ক্ষেত্রে ফন ডার লেয়েন ‘সহযোগী সদস্য’ শব্দটিকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তাতে এই মর্যাদা ইউক্রেনকে দেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। মন্ট্রিয়লের ভাষণে তিনি যেমনটি স্বীকার করেছেন, এই মর্যাদা দেওয়া হবে এমন দেশকে, যাকে কখনোই পুরোপুরি ইইউতে নেওয়া যাবে না—ইউরোপীয় কাউন্সিলে পর্যবেক্ষক মর্যাদার মতো সুবিধাসহ ব্লকে ঢোকার মধ্যবর্তী ধাপ হিসেবে নয়।
টেখাউয়ের মতে, এই নাম নিয়ে বিরোধ আসলে বাজেট ও ব্লকের নিরাপত্তার মতো মূল বিতর্কগুলোতে চলমান বড় প্রশ্নেরই প্রতিনিধি—ইইউ কি তার অভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়ে বেশি চালিত হবে, নাকি জাতীয় সরকারগুলো দিয়ে। তিনি বলেন, বিষয়টি অনেক দিক থেকেই ‘অমীমাংসযোগ্য’।




