রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলা: খারকিভের ডাককেন্দ্র ও জাহাজে রুশ হামলা, রিয়াজানের শোধনাগারে আগুন
রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে দুই পক্ষেই হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। মস্কো বৃহস্পতিবার বলেছে, তারা একটি ডাক লজিস্টিকস কেন্দ্র, একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও একটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলা করেছে; অন্যদিকে ইউক্রেনের ড্রোনে রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বের রিয়াজান শহরের একটি শিল্প এলাকায় আগুন লেগেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে বলেছে, তাদের বাহিনী ড্রোন দিয়ে খারকিভের বাইরে নোভি কোরোতিচ গ্রামে ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় বেসরকারি ডেলিভারি কোম্পানি নোভা পোশতার একটি টার্মিনালে হামলা করেছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, তারা দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে একটি ৩৩০ কিলোভোল্টের উপকেন্দ্রে এবং ওডেসা বন্দর থেকে ৫২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে কৃষ্ণ সাগরে সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি শুকনো পণ্যবাহী জাহাজে হামলা করেছে। ডাক টার্মিনাল বা জাহাজে হামলার বিষয়টি ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেননি।
খারকিভের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ বলেছেন, গত এক দিনে রাশিয়া শহরটি ও অঞ্চলের ১৭টি বসতিতে ৮০টির বেশি ড্রোন দিয়ে হামলা করেছে, যাতে একটি শিশুসহ ছয়জন আহত হয়েছেন।
পূর্বের দোনেৎস্ক অঞ্চলের গভর্নর ভাদিম ফিলাশকিন বলেছেন, বুধবার রুশ হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন; সেরহিভকায় দুজন ও ইয়াসনোহিরকায় দুজন নিহত হন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নোভোস্তি দনবাসু জানিয়েছে, ইয়াসনোহিরকায় নিহত দুজন নারী; রুশ বাহিনী দুটি গ্লাইড বোমা দিয়ে গ্রামটিতে হামলা করলে তারা মারা যান।
মস্কো বলে, তারা যেসব লজিস্টিকস স্থাপনায় হামলা করে সেগুলো ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর কাজে লাগে। নোভা পোশতার স্থাপনায় বারবার হামলা হয়েছে, যার মধ্যে আগস্টে কিয়েভের একটি বাছাইকেন্দ্রে হামলায় তিনজন নিহত হয়েছিলেন।
রুশ ড্রোনে রাতে কিয়েভের বাইরে বুচা জেলায়ও বড় আগুন লেগেছে। সেখানে একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে হামলা হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের গভর্নর পাভেল মালকভ বলেছেন, রাতে ২০০টির বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন অঞ্চলটিতে হামলা করেছে। তিনি বলেছেন, ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকটি শিল্প স্থাপনায় আগুন লেগেছে ও বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, এবং একজন আহত হয়েছেন। মালকভ পরে বলেছেন, বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে বা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
মালকভ কোন স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছে তা বলেননি। তবে রাশিয়ার স্বাধীন সংবাদমাধ্যম আস্ত্রার যাচাই করা ফুটেজে রিয়াজান তেল শোধনাগারে আগুন দেখা গেছে; রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি রসনেফটের মালিকানাধীন এই শোধনাগার রাশিয়ার সবচেয়ে বড়গুলোর একটি।
মস্কো থেকে আল জাজিরার ইয়ুলিয়া শাপোভালোভা বলেছেন, অক্টোবরের শেষে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা জোরদার করেছে বলে স্পষ্ট। তিনি জানান, মাত্র দুই দিন আগেই ইয়ারোস্লাভল শোধনাগারে হামলা হয়েছিল। রিয়াজানে একটি স্কুলের জানালার কাচও ভেঙেছে এবং ক্লাস বাতিল করা হয়েছে।
শাপোভালোভা বলেছেন, এই হামলাগুলো রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন থামাতে পারেনি, তবে শোধনাগারে হামলার খবর শুনে মানুষ গাড়িতে জ্বালানি ভরতে পেট্রল পাম্পে ছুটে যাওয়ায় মাঝে মাঝে ঘাটতির খবর পাওয়া যায়।
এদিকে রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলা জোরদার করেছে, যাতে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে কিয়েভে পালাক্রমে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। কিয়েভ থেকে আল জাজিরার অড্রে ম্যাকআলপাইন বলেছেন, সেখানকার কিছু মানুষের দিনের পর দিন বিদ্যুৎ, আর তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ পানি নেই।
ম্যাকআলপাইন বলেছেন, শহর কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, তাপমাত্রা টানা পাঁচ দিন মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে না থাকলে তাপ সরবরাহ চালু হবে না। তাপমাত্রা শূন্যের কাছে নামতে থাকায় এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে উঠছে বলে তিনি জানান।


