গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইভার গ্রেড বদলের অভিযোগ বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে, তদন্ত কমিটি গঠন

গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. নিলয় কুমার দের বিরুদ্ধে ভাইভা পরীক্ষার গ্রেড পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।
বিভাগের ২১তম ব্যাচের দুই শিক্ষার্থী আকতান রশিদ ও মো. সৌরভ হোসেনের দাবি, ভাইভা বোর্ডে তাঁদের ‘এ’ গ্রেড দেওয়া হলেও চূড়ান্ত ফলাফলে তা পরিবর্তন করে ‘এ মাইনাস’ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ ঘটনায় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর পৃথক অভিযোগপত্র জমা দেন ওই দুই শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, গত ১২ আগস্ট রসায়ন বিভাগের শিক্ষক শারমিন সুলতানা রাখি ও বুলবুল আহমেদের বোর্ডে তাঁদের চতুর্থ সেমিস্টারের ভাইভা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভাইভা বোর্ডের দেওয়া নম্বর অনুযায়ী তাঁদের গ্রেড ছিল ‘এ’।
তবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, গ্রেড পরিবর্তন করে ‘এ মাইনাস’ করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
বিভাগীয় প্রধান ড. নিলয় কুমার দে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ভাইভা বোর্ড থেকে পাঠানো মূল নম্বরপত্র এবং চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত ও অনলাইনে প্রকাশের নথিপত্র যাচাইয়ে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সঠিক গ্রেড পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রসায়ন বিভাগের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বিভাগীয় প্রধান ড. নিলয় কুমার দের দুটি বার্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একটি বার্তায় তাঁকে লিখতে দেখা যায়, “একটু ভর্তির জন্য কাজ কোরো। ভাইভা তে ভালো করতে পারবে, কারণ ভর্তির কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হবে।” অন্য একটি বার্তায় তিনি লেখেন, “এই সেমিস্টারে যারা ভর্তি করিয়েছো, তারা তাদের নাম, আইডি, ব্যাচ লিখে মেইল করো।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. নিলয় কুমার দে বলেন, “নম্বর ও গ্রেড পরিবর্তন করা হয়নি। অনলাইনে তুলতে গিয়ে ভুল হতে পারে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিয়ে থাকলে ভাইভা বোর্ডের গ্রেডের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ভুল হয়ে থাকলে তা সমাধান করে দেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে।”




