হামের টিকা কেন আমদানি হয়নি, দায়ীদের জবাবদিহি হবে: শাহবাগে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুহিত

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং জরুরি প্রয়োজনে টিকা আমদানি করা হয়নি কেন, তা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৫ সালের শুরুতে যে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল, তা তৎকালীন সরকার পরিচালনা করেনি। এমনকি মন্ত্রণালয়ে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য কোনো টিকার মজুতও রাখা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ড. মুহিত বলেন, কারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হয়নি, তা দেশবাসীর জানা প্রয়োজন। সরকার দোষারোপের রাজনীতি করতে চায় না বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণে যাতে কোনো শিশুর জীবনহানি না ঘটে, সেজন্য ঘটনার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন বিচারক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বিষয়টি অনুসন্ধান করছে বলে তিনি জানান।
টিকা সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করা হয়। মাত্র এক থেকে দুই মাসের ব্যবধানে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
একই অনুষ্ঠানে দেশে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও শরীরচর্চার অভাবে কম বয়সেই অনেকে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন এবং এর প্রভাব শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর নয়, পুরো পরিবারের ওপর পড়ে।
তিনি জানান, দূরদূরান্তের হৃদরোগীরা যাতে বাড়িতে বসেই সাশ্রয়ী পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘অ্যাক্রস-বিডি’ গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের ৮ জন তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।
একই সঙ্গে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।




