‘পু’ চরিত্রে কারিনাকে দেখে শাহরুখের প্রশ্ন, ‘তুমি কি ওকে এসব করতে দেবে?’—কফি উইথ করণে গল্প শোনালেন করণ জোহর

বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ‘পু’। ২০০১ সালে মুক্তি পাওয়া করণ জোহরের ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমায় কারিনা কাপুরের অভিনীত পূজা ওরফে ‘পু’ চরিত্রটি আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে। তবে শুরুতে এই চরিত্র নিয়ে খুব একটা আশাবাদী ছিলেন না খোদ শাহরুখ খানও; কারিনার অভিনয় দেখে তিনি করণকে প্রশ্ন পর্যন্ত করেছিলেন।
সম্প্রতি ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমের চতুর্থ পর্বে অতিথি হয়ে এসেছিলেন কারিনা কাপুর ও সাইফ আলী খান। সেখানেই ‘পু’ চরিত্রটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, সেই গল্প শোনান করণ জোহর।
করণ জানান, ‘পু’ আসলে তাঁর নিজেরই আরেকটি রূপ। কারিনাকে চরিত্রটির জন্য বেছে নেওয়ার পেছনের ঘটনাও শোনান তিনি। এক পার্টিতে প্রথমবার কারিনাকে দেখেছিলেন করণ; তখন কারিনার বয়স মাত্র ১৭ বছর।
সেই স্মৃতি মনে করে করণ বলেন, “কোনো কারণ ছাড়াই সে তখন বেশ ভাব দেখাচ্ছিল। তার বয়স ছিল ১৭। আমি তাকে দেখে মনে মনে বলেছিলাম, এই তো! আমার মনে হয়, পু আমারই আরেক রূপ। পু আসলে আমি। আমার সিনেমায় কারিনাকেই চাই।”
কারিনা জানান, চরিত্রটিতে অভিনয়ের সময় করণ সবকিছু নিজে করে দেখাতেন। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি দৃশ্যে তিনি শুধু করণকে অনুকরণ করতেন; করণ যেভাবে করতেন, তিনিও ঠিক সেভাবেই অনুসরণ করতেন। এমনকি জুতা তুলে নেওয়ার মতো বিষয়ও করণ নিজে করে দেখাতেন বলে জানান কারিনা।
তবে কারিনার এমন অভিনয় দেখে শুরুতে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন সিনেমার প্রধান অভিনেতা শাহরুখ খান। কারিনা বলেন, “একপর্যায়ে শাহরুখ আমার দিকে তাকিয়ে করণকে বলেছিলেন, তুমি কি ওকে এসব করতে দেবে?”
করণ জানান, ‘পু’ চরিত্রটি দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে শুরুতে অনেকেরই সংশয় ছিল; শাহরুখও তাঁদের মধ্যে একজন। করণ বলেন, “পরে শাহরুখ আমাকে বলেছিলেন, শুধু তুমি আর বেবো (কারিনা) এই বিষয়গুলোকে মজার মনে করছ। ২০০১ সালে এমন অতিরঞ্জিত অভিনয়, জেন-জি ধরনের একটি মেয়ের অদ্ভুত ও বিচিত্র সংলাপ বলা খুব একটা প্রচলিত ছিল না।”
সিনেমার একটি দৃশ্যে ‘পু’ যখন পুরুষদের নম্বর দিয়ে বিচার করছিল, সেই দৃশ্যের কথাও উল্লেখ করেন করণ। তাঁর ভাষ্য, দৃশ্যটি করার পর কারিনা আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর কাছে এসেছিলেন। করণ বলেন, “দৃশ্যটি করার পর কারিনা আমার কাছে এসে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, এটি আমার ক্যারিয়ারের সেরা দৃশ্য। অথচ তখন সে মাত্র এক বছর ধরে চলচ্চিত্রজগতে কাজ করছে।”
শুধু শাহরুখ নন, শুরুতে কারিনার নিজেরও চরিত্রটি নিয়ে সংশয় ছিল। করণ জানান, চরিত্রটি দর্শকের ভালো লাগবে—এ বিষয়ে কারিনাকে আশ্বস্ত করতে হয়েছিল তাঁকে। করণ বলেন, “আমার তাকে বোঝাতে হয়েছিল যে চরিত্রটি দর্শকের ভালো লাগবে। সিনেমাটি দেখার পর তার বাবা রণধীর কাপুর তাকে বলেছিলেন, তুমি তো জনি লিভারের চরিত্রে অভিনয় করছ।”
করণ আরো জানান, ‘পু’ চরিত্রে অভিনয় করলে ক্যারিয়ারে আদৌ কোনো সুবিধা হবে কি না, তা নিয়েও চিন্তিত ছিলেন কারিনা। তবে সিনেমা মুক্তির পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে পরবর্তী প্রায় আটটি সিনেমাতেও কারিনাকে একই ধরনের চরিত্রে দেখা গেছে।
আড্ডায় আরো জানা যায়, ‘কাল হো না হো’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কারিনা। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া নিখিল আদভানি পরিচালিত সিনেমাটির প্রযোজক ছিলেন করণ জোহর। করণ বলেন, “তুমি যখন ‘কাল হো না হো’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলে, তখন সাইফকে বেশ হতাশ দেখাচ্ছিল। কারণ, সে তোমার সঙ্গে কাজ করার জন্য সত্যিই খুব আগ্রহী ছিল।”
২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রেস’ সিনেমাতেও অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন কারিনা। সাইফ জানান, প্রস্তাবটি কারিনাকে দেওয়া হয়েছিল এবং চিত্রনাট্যটিও বেশ দারুণ ছিল; তারপরও কারিনা বলেছিলেন, তিনি এখন কোনো সিনেমায় কাজ করবেন না। এর জবাবে কারিনা বলেন, “নিয়তি অন্য কিছু ঠিক করে রেখেছিল। ‘তাশান’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়েই আমরা প্রেমে পড়েছিলাম।” ২০০৮ সালে ‘তাশান’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় সাইফ ও কারিনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে; পরে ২০১২ সালে বিয়ে করেন তাঁরা। বর্তমানে এই দম্পতির দুই ছেলে—তৈমুর ও জেহ।



