‘স্যরি’ লিখে এক শব্দের পোস্ট, এক কোটি ৭০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে আলোচনায় প্রথম আলো

জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শুধু ‘স্যরি’ লিখে দেওয়া একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া সংক্ষিপ্ত এই পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং বুধবার দিনভর ‘স্যরি’ শব্দটিই ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে।
পোস্টটি ঘিরে শুরুতে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ হ্যাক হয়েছে কি না। কেউ কেউ প্রশ্ন করেন, ‘স্যরি’ বললেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।
পরে জানা যায়, পেজটি হ্যাক হয়নি। প্রথম আলোর রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র নতুন সংখ্যার প্রচারণার অংশ হিসেবেই এমন ব্যতিক্রমী পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
বুধবার পত্রিকাটির সম্পাদক মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, পোস্টটি প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। এতে সোয়া দুই লাখের বেশি প্রতিক্রিয়া পড়েছে এবং মন্তব্য এসেছে প্রায় সাত হাজার।
পোস্টটি ঘিরে মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মতিউর রহমান বলেন, তাদের সম্পর্ক নিয়ে, পত্রিকা নিয়ে, অতীত ও বর্তমান নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু ‘স্যরি’ বলা নিয়ে একটি শব্দকে কেন্দ্র করে এত কথা ও এত মানুষের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হওয়ায় তাদের ভালো লেগেছে, এবং এটি সমাজের মানুষের মধ্যে এক ধরনের চাঞ্চল্য থাকারই প্রকাশ।
অন্যদিকে নেটিজেনদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘদিনের নানা ঘটনা ও অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতেই কি ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো।
এ নিয়ে লেখক ও প্রাবন্ধিক মজিদ মাহমুদ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, কারও ‘স্যরি’ অপূর্ণ প্রত্যাশা পূরণ করে না, তাই প্রত্যাশার ভার যতটা সম্ভব নিজের কাঁধেই রাখা ভালো। তিনি লেখেন, অন্যের কাছে ন্যায্য প্রাপ্য দাবি করা অধিকার, কিন্তু নিজের সব অপূর্ণতার দায় অন্যের ওপর চাপানো নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার নামান্তর।
জানতে চাইলে মজিদ মাহমুদ বলেন, তার স্ট্যাটাসটি ছিল উপলক্ষমাত্র; প্রথম আলোর ‘স্যরি’ পোস্টকে কেন্দ্র করেই তিনি বিষয়টি লিখেছেন এবং প্রথম আলোর ‘স্যরি’ বলার নিন্দা বা প্রশংসা কোনোটিই তিনি করেননি। তিনি বলেন, প্রথম আলো দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র, যার জনপ্রিয়তা যেমন রয়েছে, বিতর্কও রয়েছে, এবং জাতীয় জীবনে মতামত গঠনে পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে; পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাজন ও সমীকরণেও পত্রিকাটির ভূমিকা রয়েছে।
প্রথম আলোর ‘স্যরি’ বলার কৌশলকে মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি হিসেবে দেখছেন সাংবাদিক ও গবেষক আমিন আল রশীদ। তিনি বলেন, গণমাধ্যম কারও উদ্দেশ্য সাধন করবে না এবং সবাইকে খুশি করা মিডিয়ার কাজ নয়; একটি প্রতিবেদন কারও পক্ষে যাবে, কারও বিপক্ষে যাবে, এবং যার বিপক্ষে যাবে তার বাসায় গিয়ে ‘স্যরি’ বলা যায় না, এমন ‘স্যরি’ বলতে গেলে অসংখ্য গোষ্ঠীকে বলতে হবে।
আমিন আল রশীদ আরও বলেন, ‘স্যরি’ বলার এই ধরনের কোনো প্রয়োজন ছিল না, এটি তাদের একটি মার্কেটিং কৌশল, একটি হাইপ তোলার দরকার ছিল এবং প্রথম আলো সেখানে সফল হয়েছে।
একই সময়ে ‘স্যরি’ নিয়ে খায়রুল বাশার নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত ১৭ সেকেন্ডের একটি গানও ভাইরাল হয়েছে, যার মূল বিষয়বস্তু ‘স্যরি’। যোগাযোগ করা হলে খায়রুল বাশার বলেন, গানটি তিনি ২০২৩ বা ২০২৪ সালে গেয়েছিলেন; ‘স্যরি’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ড শুরু হলে তিনি গানটি নতুন করে ফেসবুকে প্রকাশ করেন। গানটি কাকে উদ্দেশ করে তৈরি, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রেমের বিরহ থেকেই গানটি তৈরি করেছিলেন। নেটিজেনদের ধারণা, গানটি যে উদ্দেশ্যেই গাওয়া হোক, প্রথম আলোর ‘স্যরি’ ঘটনার পরই এটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।



