আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে গোল্ড কাপের ফরম্যাট বদলাল কনকাকাফ, দুই গ্রুপে আটটি করে দল

আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ গোল্ড কাপের ফরম্যাটে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে কনকাকাফ। বৃহস্পতিবার দেওয়া এই ঘোষণায় সংস্থাটি বলেছে, এর লক্ষ্য ‘শীর্ষ সারির দলগুলোর মধ্যে আরও অর্থবহ ম্যাচ ও মুখোমুখি লড়াই’ উপহার দেওয়া।
৩৫ বছরের পুরোনো এই টুর্নামেন্ট ২০২৭ সালে ফিরবে তার ১৯তম আসর নিয়ে। আসরটি শুরু হবে ১৭ জুন এবং শেষ হবে ১১ জুলাইয়ের ফাইনাল দিয়ে। আয়োজক শহরগুলো এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবে ১৯৯১ সালের পর থেকে প্রতিটি আসরই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বা সহ-আয়োজিত হয়েছে।
গোল্ড কাপ হলো কনকাকাফের (উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল কনফেডারেশন) দ্বিবার্ষিক আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপ। ১৯৬০-এর দশক থেকে সংস্থাটি কোনো না কোনোভাবে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করে আসছে, আর ১৯৯১ সালে গোল্ড কাপ চালুর মধ্য দিয়ে ফরম্যাটটি প্রমিত রূপ পায়।
টুর্নামেন্টের ১৬টি দল জায়গা পায় কনকাকাফ নেশনস লিগের মাধ্যমে। গ্রুপ পর্ব থেকে আটটি আসন মেলে, আরও সাতটি আসন মেলে নিচের সারির দলগুলোর জন্য দ্বিতীয় সুযোগের টুর্নামেন্ট থেকে, আর বাকি আসনটি পূরণ করে একটি অতিথি দেশ। সাম্প্রতিকতম অতিথি সৌদি আরব ২০২৫-এর আসরে খেলেছে এবং আগামী বছরও ফিরবে।
গোল্ড কাপ সবচেয়ে বেশিবার জিতেছে মেক্সিকো, ২০২৫ সালসহ মোট ১০ বার। যুক্তরাষ্ট্র জিতেছে সাতবার, আর কানাডা একবার, ২০০০ সালে।
আগের ফরম্যাটে গ্রুপ পর্বে ছিল চারটি দলের চারটি গ্রুপ, সেখান থেকে আটটি দল যেত একক-বিদায়ের নকআউট পর্বে। এই ফরম্যাট নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা হতো যে, শীর্ষ দলগুলোর মধ্যে অর্থবহ লড়াই গ্রুপ পর্বে দেখা যেত না।
নতুন ফরম্যাটে গ্রুপ পর্বে থাকবে আটটি করে দলের দুটি গ্রুপ। প্রতিটি দল এখন গ্রুপ পর্বে তিনটির বদলে চারটি ম্যাচ খেলবে। গ্রুপগুলো সাজানো হবে ‘সিডিং ব্যান্ড’ পদ্ধতিতে, যাতে প্রতিটি দেশ একই ধরনের মিশ্র প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়।
কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানি বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের সমর্থকেরা দেখতে চান আমাদের অঞ্চলের সেরা দলগুলো একে অপরের বিপক্ষে খেলছে, আর এই ফরম্যাট সেই লড়াইগুলো প্রতিযোগিতার শুরুতেই ঘটার আরও সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ হবে, কারণ দলগুলো ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে নকআউট পর্বে জায়গার জন্য লড়বে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত গোল্ড কাপকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও রোমাঞ্চকর করবে।’
এই ফরম্যাট উয়েফার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপা লিগের ধরনের সঙ্গে মিললেও হুবহু এক নয়। ২০২৪ সালে উয়েফা প্রচলিত গ্রুপ পর্ব পুরোপুরি তুলে দিয়ে ‘লিগ পর্বে’ একক টেবিল চালু করে, যেখানে দলগুলোকে ‘সিডিং পটে’ ভাগ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের বিজয়ী আর কনফেডারেশনস কাপের মতো কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে জায়গা না পাওয়াসহ নানা কারণে গোল্ড কাপ সাম্প্রতিক সময়ে সমর্থকদের আগ্রহ ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ কিছুটা হারিয়েছে, আর এই বদল সেই আগ্রহ ফেরানোর একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


