মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর পদত্যাগ করলেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নাগরিক অধিকার কর্মকর্তা ধিলন
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ কর্মকর্তা হারমিত ধিলন পদত্যাগ করেছেন। অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলি ও জেফরি এপস্টেইন ফাইল নিয়ে কংগ্রেসের একাধিক তদন্তের প্রস্তুতির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনে এই পদত্যাগ এল।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধিলনের পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেন। ব্ল্যাঞ্চ লেখেন, ‘আজ আমি সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হারমিত ধিলনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি। তিনি প্রতিটি আমেরিকানের নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষা করেছেন এবং ভয় বা পক্ষপাত ছাড়াই আইন প্রয়োগ করেছেন।’
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ধিলন ২০২৫ সালের এপ্রিলে এই পদে নিশ্চিত হন। বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগে তিনি নাটকীয় পুনর্গঠন তদারকি করেছেন। গত ডিসেম্বরে বিচার বিভাগের শত শত সাবেক কর্মকর্তা এক যৌথ চিঠিতে ট্রাম্পের অধীনে বিভাগটির ‘ধ্বংসের’ নিন্দা জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষে জয় পাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করা প্রথম উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ধিলন।
প্রতিনিধি পরিষদের শক্তিশালী ওভারসাইট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি কমিটির সম্ভাব্য নতুন চেয়ার হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রবার্ট গার্সিয়া বুধবার চারটি বড় তদন্ত হাতে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) এজেন্টদের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এপস্টেইন ফাইল।
ধিলন চলতি বছরের শুরুতে তাঁর কর্মীদের জানিয়েছিলেন বলে জানা গেছে, তাঁর দপ্তর মিনিয়াপোলিসে আইসিই এজেন্টদের গুলিতে নিহত দুই মার্কিন নাগরিক—রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির—মারাত্মক গুলির ঘটনা তদন্ত করবে না; অথচ পুলিশ কর্মকর্তাদের হাতে আইন প্রয়োগ-সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ড তদন্তের দায়িত্ব সাধারণত এই দপ্তরেরই থাকে।
মে মাসে গার্সিয়া প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, এপস্টেইন তদন্ত সংক্রান্ত অপ্রকাশিত নথি নিয়ে ট্রাম্পকে যাচাই-বাছাই থেকে আড়াল করা হচ্ছে। ব্ল্যাঞ্চের পূর্বসূরি প্যাম বন্ডিকে আইনপ্রণেতারা এই মামলা নিয়ে প্রশ্ন করা এক রুদ্ধদ্বার শুনানিতে ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গার্সিয়া অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফাইল প্রকাশের সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন বারবার থামিয়ে দিয়েছিলেন ধিলন।
ধিলন কখন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন জানতে চাইলে বিচার বিভাগ ব্ল্যাঞ্চের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের দিকে ইঙ্গিত করেছে। হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।




