টেনেসি কারাগার থেকে পালানো খুনি ধরা পড়লেন মিসৌরিতে, ইলিনয়ের শেডে লুকিয়ে ছিলেন তিনি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া সাজাপ্রাপ্ত খুনি জ্যাকব অ্যালেন মর্লিকে মিসৌরি থেকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো বাধা ছাড়াই তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং এই অভিযানে ফ্লক (FLOCK) ক্যামেরার তথ্য তাঁকে শনাক্ত করতে সাহায্য করেছে।
মিসৌরি স্টেট হাইওয়ে পেট্রোল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩ নভেম্বর ২০২৬ সকাল প্রায় সাড়ে ৯টায় টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন থেকে তারা তথ্য পায় যে মর্লি ইন্ডিপেনডেন্সের কাছে ইন্টারস্টেট ৭০ ধরে পশ্চিম দিকে যাচ্ছেন।
বিবৃতি অনুযায়ী, ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহার করে সন্দেহভাজন গাড়িটি শনাক্ত করা হয় এবং কর্মকর্তারা ওই এলাকায় মোতায়েন হতে শুরু করেন। পরে আবারও ফ্লক ক্যামেরার সাহায্যে গোপন কর্মকর্তারা লিবার্টির মিসৌরি ২৯১ সড়কে দক্ষিণমুখী চলমান অবস্থায় গাড়িটির অবস্থান পান।
২৮ বছর বয়সী মর্লি ২৫ অক্টোবর টেনেসির টিপটনভিলের নর্থওয়েস্ট কারেকশনাল কমপ্লেক্স থেকে পালিয়ে যান। তিনি ২০২২ সালে কোডি বার্চফিল্ড হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন বলে কারা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তদন্তকারীদের ধারণা, পালানোর পর মর্লি ইলিনয়ের ম্যারিয়নের কাছে একটি শেডে কিছুদিন লুকিয়ে ছিলেন। শিকারিরা মাঝে মাঝে ওই শেডটি ব্যবহার করতেন এবং এটি কারাগার থেকে প্রায় ১২৭ মাইল দূরে অবস্থিত।
উইলিয়ামসন কাউন্টির শেরিফ জেফ ডিডেরিচ জানিয়েছেন, পাওয়া প্রমাণে দেখা গেছে, ওই শেডে থাকার সময় মর্লি বিয়ার পান করেছেন এবং রসুন-রুটি (গার্লিক ব্রেড) তৈরি করাসহ অন্য খাবারও খেয়েছেন।
শেরিফের ভাষ্য অনুযায়ী, খামার থেকে একটি ট্রাক নেওয়ার পর মর্লি হাতে লেখা একটি দুঃখপ্রকাশের চিঠি রেখে যান। তাঁর বিরুদ্ধে ওই সম্পত্তি থেকে পোশাক এবং তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
ডিডেরিচ মনে করেন, কারাগার থেকে পালানোর পর ব্যবহার করা আরেকটি ট্রাক ফেলে দেওয়ার পর মর্লি পায়ে হেঁটে প্রায় তিন মাইল পথ পাড়ি দেন। শেরিফ বলেন, 'তিনি কীভাবে ম্যারিয়নে গিয়ে পৌঁছালেন, তা একরকম রহস্যই।'
কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন, টেনেসি ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের ভাষ্য অনুযায়ী মর্লি ২৬ অক্টোবর রাত প্রায় ১টায় কারাগার থেকে প্রায় দুই মাইল দক্ষিণে কিস্টোন ড্রাইভের ৪০০ ব্লক থেকে একটি পিকআপ ট্রাক চুরি করেন। পরদিন ভোরে ইলিনয়ের ম্যারিয়নে ট্রাকটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেলেও তখন মর্লিকে পাওয়া যায়নি।
প্রথম শ্রেণির হত্যার সাজার পাশাপাশি মর্লি চুরি, ভাঙচুর, প্রমাণ নষ্ট করা এবং গ্রেপ্তার এড়ানোর অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।




