৩১ বছরের যাত্রার ইতি: বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের প্রাচীনতম সাময়িকী স্যালন

ইন্টারনেটের প্রাচীনতম সাধারণ-আগ্রহের প্রকাশনা হিসেবে পরিচিত স্যালন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশনাটি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠার বার্ষিকীর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে, ২০ নভেম্বরের আগেই এলো এই ঘোষণা; এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে তিন দশকের বেশি সময় ধরে চলা একটি ডিজিটাল সাংবাদিকতার অধ্যায়।
বন্ধের ঘোষণা দিয়ে স্যালন বলেছে, ‘সঠিক শব্দ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যখন এমন কিছুর ইতি ঘটে যা এত মানুষের কাছে এতটা অর্থ বহন করেছে। স্যালন কখনোই শুধু একটি ওয়েবসাইট ছিল না। এটি ছিল সাংবাদিকতা কী হতে পারে, তা নিয়ে একটি ধারণা—যার জন্ম হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন ইন্টারনেট ছিল মূলত অনাবিষ্কৃত এক সীমানা।’
বন্ধের কারণ হিসেবে প্রকাশনাটি বলেছে, স্বাধীন ডিজিটাল সাংবাদিকতার ব্যবসায়িক বাস্তবতা বছরের পর বছর ধরে গভীরভাবে বদলে গেছে। সতর্ক বিবেচনার পর তারা এই কঠিন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে তাদের প্রকাশনা মডেল আর টেকসই নয়। এই খবর অনেক পাঠকের জন্য গভীর হতাশার হবে বলেও তারা স্বীকার করেছে এবং সেই দুঃখে নিজেরাও শরিক বলে জানিয়েছে।
স্যালন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালে সান ফ্রান্সিসকোতে। প্রকাশনাটি বলেছে, তাদের কাজ এমন এক ধরনের সাংবাদিকতার পথিকৃৎ হতে সাহায্য করেছে, যা পরে প্রকাশনার সম্পূর্ণ নতুন একটি যুগকে সংজ্ঞায়িত করেছে। ২০০০-এর দশকে স্যালন তাদের বেশির ভাগ সম্পাদকীয় কর্মীকে নিউ ইয়র্ক সিটিতে সরিয়ে নেয়। রাজনীতি, শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়ে প্রতিবেদনের মাধ্যমেই গড়ে উঠেছিল প্রকাশনাটির সুনাম।
২০১১ সালে কলম্বিয়া জার্নালিজম রিভিউয়ের একটি লেখায় স্যালনকে ইন্টারনেটের প্রাচীনতম সাধারণ-আগ্রহের প্রকাশনা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে প্রকাশনাটি অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছে—এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৬ সালে টাইম ম্যাগাজিনের ‘ওয়েবসাইট অব দ্য ইয়ার’ এবং ১৯৯৭ সালে বিজনেসউইকের ‘সেরা ওয়েবসাইট’ স্বীকৃতি।
বিদায়ী বিবৃতিতে স্যালন কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সেই সাংবাদিক, সম্পাদক, আলোকচিত্রী, প্রযোজক, ডিজাইনার, ব্যবসায়িক দল ও অগণিত সহকর্মীর প্রতি, যাঁরা এর নানা অধ্যায়ে প্রকাশনাটিকে প্রাণ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘৩১ বছর একটি অসাধারণ যাত্রা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই বছরগুলোতে যা ঘটেছে: সাংবাদিকতা, ধারণা, কণ্ঠস্বর, আলোচনা আর সেগুলোকে ঘিরে গড়ে ওঠা সম্প্রদায়।’




