কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত ব্রিটিশ চিকিৎসককে লন্ডনের রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) কাজ করার সময় ইবোলায় আক্রান্ত এক ব্রিটিশ চিকিৎসককে বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
পরিচয় প্রকাশ না করা ওই রোগীকে একটি মেডিকেল ইভাকুয়েশন ফ্লাইটে দেশে আনা হয় বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ।
তিনি এখন উত্তর লন্ডনের হ্যাম্পস্টেডে রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালের একটি বিশেষায়িত উচ্চমাত্রার আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) এর অল-হ্যাজার্ডস পাবলিক হেলথ রেসপন্সের উপপরিচালক ডা. রেনু বিন্দ্রা বলেন, ইউকেএইচএসএ ও এনএইচএসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সুপ্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী প্রোটোকল রয়েছে, যাতে পরবর্তী সংক্রমণের ঝুঁকি সীমিত রাখা যায়, এবং বৃহত্তর জনগণের জন্য ঝুঁকি কমই রয়ে গেছে।
ওই চিকিৎসককে একটি মানবিক সংস্থা ডিআর কঙ্গোর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সহায়তার জন্য পাঠিয়েছিল।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবে কোনো ব্রিটিশ নাগরিকের ইবোলায় আক্রান্ত হওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা। এই প্রাদুর্ভাবটিকে রেকর্ডে দ্বিতীয় বৃহত্তম বলা হয়েছে।
রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে কঠোর প্রোটোকল রয়েছে, যাতে রোগী কোনো জনসাধারণের সংস্পর্শে না আসেন। রোগীর চিকিৎসায় নিয়োজিত সব কর্মী প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামসহ সংক্রমণ ঠেকানোর অন্যান্য ব্যবস্থা ব্যবহার করছেন।
ইবোলা একটি অত্যন্ত সংক্রামক, গুরুতর এবং প্রায়ই প্রাণঘাতী রোগ। এটি আক্রান্ত ব্যক্তি বা মৃতদেহের রক্ত বা বমির মতো শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়।
ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মে মাসে ঘোষণা করা বর্তমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজারের বেশি। রোগটি পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া ও উগান্ডায় ছড়িয়েছে এবং গত মাসে নাইজেরিয়া তার রাজধানী আবুজায় একটি আক্রান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।
অর্থোইবোলাভাইরাসের সংস্পর্শে আসার দুই থেকে ২১ দিনের মধ্যে মানুষ সাধারণত অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে জ্বর, ব্যথা ও ক্লান্তি থাকে, পরে তা ডায়রিয়া, বমি এবং অজানা কারণে রক্তপাতে রূপ নিতে পারে।
যুক্তরাজ্যে এর আগে মাত্র চারটি নিশ্চিত ইবোলা আক্রান্তের ঘটনা ছিল। ১৯৭৬ সালের একটি ঘটনা ছিল গবেষণাগারে সূচের দুর্ঘটনা থেকে, আর বাকি তিনজন ছিলেন ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাবে সাড়া দিতে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মী।




